বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান নেতা ও জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। আজ তার জন্মদিন। জন্মদিনে এই কিংবদন্তীকে নিয়ে কিছু লেখা যায় কিনা ভাবছিলাম কিন্তু মনে হলো ]যে সবাই যা লিখবে তার চেয়ে নিশ্চিন্তেই আমার লেখা খুব একটা ভিন্ন কিছু হবেনা কারন অজানা কিছু লেখার মতন জ্ঞানের ভান্ডার আমার এখনো তৈরি হয়নি। তাছাড়া কেনো জানি গতানুগতিক কিছু লিখে আমি মজা পাইনা আর তাই এই চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে ফেললাম।কিন্তু হঠাৎ মাথায় খেলে গেলো ফুটবলার বঙ্গবন্ধুর কথা! ব্যানার হাতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মিছিল করা এক তরুন রাজনীতিবিদ থেকে তার স্বাধীনতার নায়ক হওয়ার গল্পটা সবাই জানে। কিন্তু এর আগে ঢাকা – গোপালগঞ্জের মাঠ কাপানো কিশোর বঙ্গবন্ধুকে কয়জন চিনে?দেশ স্বাধীন হওয়ার পর খেলার জগৎটাকে অনেক সমর্থন দিতেন তিনি, বিশেষ করে ফুটবলকে। শোনা যায় কখনো জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সাথে দেখা হলেই নাকি বলতেন ভালো খেলে দেশের নাম উঁচু করে আনতে। তার সাফল্য ভরা জীবনের একটি সময় খেলোয়াড় হিসেবে পার করাটাই হয়ত এমন ক্রীড়া প্রেমের কারন।১৯৩৬ সালের ঘটনা। তখনো ব্রিটিশ শাসনের শেষ দেখেনি উপমহাদেশের মানুষ। সে সময় মাত্র ১৬ বছর বয়সে নিজের পায়ের কাজের জন্য পুরষ্কৃত হয়েছিলেন শেখ মুজিব। মিশন স্কুলের মাঠে সীতানাথ একাডেমির হয়ে ফাইনাল খেলতে নামেন তিনি অধিনায়ক হিসেবে। ম্যাচের স্কোরবোর্ড জানা না গেলেও এইটা নিশ্চিত যে ম্যাচটির ফল ছিলো তার দলের পক্ষেই, এই মহান নেতার সামনে টুর্নামেন্টের শিরোপা সহ একটি ছবিও পাওয়া যায় পুরনো এল্বামে। জাতীয় এক দৈনিকের মাধ্যমে একবার জানা গিয়েছিলো যে ওই টুর্নামেন্টের ট্রফিটি হারিয়ে গেছে এবং তা এখনো খোজা হচ্ছে। সামনে এইটির একটি রেপ্লিকা তৈরি করে স্মৃতি হিসেবে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে বলে জানা গিয়েছিলো।শুধু এতটুকুই নয়, আক্রমনভাগের তুখোড় এই খেলোয়াড় দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলও খেলেছিলেন ঐতিহ্যবাহী ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের হয়ে। এরপর কোলকাতায় চলে যাওয়ায় ফুটবল থেকে অনেকটা দূরে সরে যান। কিন্তু মনে তো আর খেলাটির জন্য ভালোবাসা কমেনি। ক্লাব সূত্রে জানা যায় যে দলটির পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি।লোকমুখে একটা কথা প্রচলিত আছে যে, “যে বাঙালি কখনো ফুটবল খেলেনি সে বাঙালিই না।” বাংলাদেশের জাতির জনকও তাই ফুটবল খেলেছিলেন, তাও বেশ ভালোভাবে।

Similar Posts