আপনি একজন নিখাদ ফুটবল ফ্যান, আপনি শুধু আপনার প্রিয় দলের খোজ-খবরই কেবল রাখেন না, অন্যান্য ফুটবল দলের খোজ-খবর ও আগ্রহ ভরে নেন এবং তাদের অতীত সাফল্য সম্পর্কেও জ্ঞ্যান রাখেন। তাহলে আপনি জেনে থাকবেন ফুটবল ইতিহাসের বিখ্যাত কিছু দল সম্পর্কে – ম্যাজিকাল ম্যাগায়ার্সদের হাঙ্গেরী, পেলের সান্তোস, ৫৮ আর ৭০’র ব্রাজিল, স্তেফানোর রিয়াল মাদ্রিদ, ক্রুইফের আয়াক্স এবং নেদারল্যান্ডস, বেস্ট-চার্লটনের ইউনাইটেড, ইউসেবিওর বেনফিকা, হেরেরার ইন্টার, বেকেনবাওয়ার-মুলারের বায়ার্ন-জার্মানি, সাচ্চির মিলান, জিকো-সক্রেটিসের ৮২’র ব্রাজিলের মতো কিংবদন্তীতুল্য কয়েকটি ফুটবল দলের নাম, যারা নিজ সময়ে বিশ্ব শাসন করেছিল এবং সর্বকালের সেরা ফুটবল দলগুলোর শর্টলিস্টে নিজেদের নাম উজ্জ্বল অক্ষরে লিখে রেখেছে।

পেলে, ম্যারাডোনার মতো বিশ্বজয়ী ছাড়াও ডি স্তেফানো, গারিঞ্চা, পুস্কাস, জর্জ বেস্ট, ইউসেবিও, দিদি, ক্রুইফ, জিকো, সক্রেটিস, প্লাতিনিদের মতো ফুটবলের মহাতারকাদের নামও আপনাদের অজানা থাকার কথা না! ফুটবলের এই কিংবদন্তী দলগুলোর সাফল্যের পাল্লাও অনেক ভারি। কেউ দাপটের সাথে বিশ্বকাপ জিতেছে, কেউ জিতেছে ইউরোপিয়ান কাপ, কেউ ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ, কেউ কোপা লিবার্তোদোরেস। কেউ অল্পের জন্যে সাফল্যের সর্বোচ্চ চূড়াটা ছুঁতে পারেনি, কিন্তু নান্দনিক আর দাপুটে ফুটবলের জন্যে তাদের নাম এখনো শ্রদ্ধার সাথে স্বরন করা হয়! যেমন কখনো বিশ্বকাপ না জেতা স্তেফানো, ক্রুইফ, ইউসেবিও, বেস্ট, পুস্কাস, জিকোরা ফুটবলের অমর কিংবদন্তী হয়ে আছেন . . . . . .কিন্তু আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় ৪০’র দশকের রিভার প্লেটের সেই প্রতাপশালী দল, আর্জেন্টিনা ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ দল “লা মাকুইনা” র কথা?!? কিংবা আডোলফো পেডেরনেরা, হোসে ম্যানুয়েল মরেনো, এঞ্জেল লাবুর্নাদের নাম??? ঘোর আর্জেন্টনা ফ্যান না হলে “লা মাকুইনা” কিংবা পেদেরনেরাদের আপনি চিনবেন না! অবশ্য না চিনলেও খুব বেশি দোষ দেওয়া যাবে না। “লা মাকুইনা” প্রথমত ইউরোপের কোন দল ছিল না, পেলের সান্তোসের মতো দাপটের সহিত টানা কোপা লিবার্তোদোরেস, ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জেতা দলও ছিল না! পেদেরনেরা, মরেনোরাও ব্যালন ডি’অর কিংবা গোল্ডেন বলের মতো কোন বিখ্যাত ব্যাক্তিগত ট্রফিও জিতেন নি! তাহলে কেনো এই দলটাকে আর্জেন্টিনা ফুটবল ইতিহসের সেরা দল বলছি? কেনই বা সান্তোস, রিয়াল মাদ্রিদ, আয়াক্সের মতোন কিংবদন্তীতুল্য দলগুলির সাথে এই দলের তুলনা দিচ্ছি?,উনবিংশ শতাব্দীর শেষ সময়ে “ফুটবল” নামক গোলাকার বস্তুটি লাতিনদের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। কর্মব্যস্ত, ঘাম ঝরানো দিনের শেষে বিকেলে এই গোলাকার বস্তুটি নিয়ে আনন্দে মেতে উঠাটাই ছিল লাতিনদের জীবনের অন্যতম অংশ! ইউরোপিয়ানরা এই খেলাটাকে প্রফেশনালি নিয়ে খেললেও লাতিনদের কাছে এই খেলাটা ছিল সম্পুর্ন উপভোগের মাধ্যম! ইউরোপিয়ানরা যেখানে জয়ের জন্যে খেলাটা খেলতো, লাতিনরা ছিল তাঁর উল্টা। জয়ের চেয়ে চিত্তাকর্ষক ভাবে খেলে আনন্দ পাওয়াটাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য! ইউরোপিয়ান মনিবদের কাছ থেকে খেলাটা আয়ত্ত্ব করলেও লাতিনরা ভিন্নভাবে ফুটবল খেলা শুরু করে। ইউরোপিয়ানরা পছন্দ করতো গা জোয়ারি লং বল, স্প্রিন্ট, পাওয়ার শট, ক্রস নির্ভর ফুটবল। অপরদিকে লাতিনরা খেলা শুরু করে বল পায়ে রেখে শর্ট পাস নির্ভর ফুটবল। ইউরোপিয়ান মনিবদের সাথে খেলেই এই খেলা শেখার শুরু কিনা বিধায় লাতিনরা এমন একটি স্টাইল আবিষ্কার করে যাতে করে তাঁদের মনিবদের সাথে ফিজিক্যাল কন্টাকে খুব কম যেতে হয়!এই ছোট ছোট পাসে, বল পায়ে রেখে খেলার কৌশলটাই লাতিন ফুটবলের প্রতীক হয়ে উঠে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে। আর্জেন্টিনা-উরুগুয়ের সীমান্তবর্তী এলাকা রিও ডে লা প্লাতার বিখ্যাত যুগল নাচ “ট্যাঙ্গো”র সাথে সাদৃশ্য থাকায় ধীরতালে ছোট ছোট পাসে শুরু হওয়া, কিন্তু সময়ের দ্রুতগতি এবং শৈল্পিক রূপ ধারন করা সেই ফুটবল স্টাইলটির নামই হয়ে যায় “ট্যাঙ্গো ফুটবল”। ছোট ছোট পাস আর স্কিলনির্ভর এই ট্যাঙ্গো ফুটবল দিয়েই উরুগুয়ে জিতে নেয় ২ টি বিশ্বকাপ, আর্জেন্টিনাও জিতে নেয় বেশ কয়েকটি কোপা আমেরিকা টাইটেল! ,ফুটবল ইতিহাসে বেশ কয়েকটি বিখ্যাত স্টাইলের আবির্ভাব ঘটে, মডার্ন ফুটবলের বিবর্তনে যেই স্টাইলগুলির অবদান অনস্বীকার্জ! প্রতিটি স্টাইলেরই একটি করে সেরা দল আছে। বিখ্যাত W-M সিস্টেমের সেরা দল যেমন চ্যাপম্যানের আর্সেনাল, জোগো বনিতোর সেরা দল যেমন ৭০’র ব্রাজিল, কাতেনেচ্চির সেরা দল যেমন হেরেরার ইন্টার, টোটাল ফুটবলের সেরা দল যেমন ক্রুইফের নেদারল্যান্ডস, ট্যাঙ্গো আর টোটাল ফুটবলের মিক্সড ভার্সন মডার্ন তিকিতাকার সেরা দল যেমন গার্দিওলার বার্সেলোনা।

তাহলে ট্যাঙ্গোর সেরা দল কোনটি???দুবার বিশ্বকাপ জেতা উরুগুয়ে কিংবা সেসময়ে কোপা আমেরিকা মাতানো আর্জেন্টিনা ন্যাশনাল টিম না! দলটি ৪০’র দশকে আর্জেন্টাইন প্রিমেরা মাতানো ঐতিহ্যবাহী রিভার প্লেটের সেই কিংবদন্তী দলটি, “লা মাকুইনা” কিংবা “The Machine” নামে যারা বিখ্যাত ছিল! যেই “লা মাকুইনা”র পায়েই বিখ্যাত ট্যাঙ্গো ফুটবল তার সর্বোচ্চ শৈল্পিক রূপ ধারন করেছিল! পুস্কাসের হাঙ্গেরী কিংবা ক্রুইফের আয়াক্স-নেদারল্যান্ডসের পূর্বেই যারা টোটাল ফুটবল উপহার দিয়েছিলেন, সেই “লা মাকুইনা” রাই ট্যাঙ্গোর ইতিহাসের সেরা দল, সেরা শিল্পী . . . . .,দীর্ঘ সময় আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে বোকা জুনিয়র্স এবং সান লরেঞ্জোর আধিপত্যের পর বুয়েন্স আয়ার্সের রিভার প্লেট আর্জেন্টিনা ফুটবলের বড় নাম হয়ে উঠা শুরু করে ৩০’র দশকে। তবে বড় নাম হয়ে উঠতে রিভার বেছে নেয় বর্তমানের ম্যানসিটি-পিএসজির মতোন অর্থ ঢালাকে! পুচেল্লে, ফেরেইরার মতোন সেসময়কার কিছু তারকা ফুটবলারকে দলে ভিড়িয়ে রিভার আর্জেন্টাইন ফুটবলের এলিটদের কাতারে জায়গা করে নেয়। অঢেল অর্থ খরচের বিনিময়ে সেরাদের কাতারে আসার জন্যে রিভার প্লেটকে তখন ডাকা শুরু হয় “মিলিওনারি” দের ক্লাব বলে। ফেরেইরা, পুচেল্লেদের বিদায়ের পর রিভার প্লেট নিজদের হারিয়ে ফেলে কিছুদিনের জন্যে। অবস্থা সামাল দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হয়ে আসেন সদ্য সাবেক তারকা পুচেল্লে, এবং দলের কোচ হিসেবে নিয়ে আসেন তার সতীর্থ রেনাতো সিজারিনিকে। এই সিজারিনির দল পরিচালনায় আর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পুচেল্লের দূরদর্শিতায় দুবছরের মধ্যেই গড়ে উঠে আর্জেন্টিনা ইতিহাসের সেই কিংবদন্তীতুল্য দল “লা মাকুইনা” . . . . .,রিভার প্লেটের “লা মাকুইনা” বিখ্যাত ছিল তাদের সেই ঐতিহাসিক ফাইভ ম্যান ফরোয়ার্ড লাইনের জন্যে। ২-৩-৫ পিরামিড সিস্টেম থেকে চ্যাপম্যানের ৩-২-২-৩ কিংবা W-M সিস্টেমে সুইচ করা ফুটবল দলগুলি তখন নিয়মিতভাবেই ফ্রন্টলাইনে ৫ জন ফরোয়ার্ড নিয়ে খেলতো। “লা মাকুইনা” র ফরোয়ার্ড লাইনের সেই বিখ্যাত পঞ্চপান্ডবরা হলেন: লেফট উইঙ্গার ফেলিক্স লোস্তাউ, লেফট ইনসাইড ফরোয়ার্ড এঞ্জেল লাবুর্না, সেন্টার ফরোয়ার্ড আডোলফো পেডেরনেরা, রাইট ইনসাইড ফরোয়ার্ড হোসে ম্যানুয়েল মরেনো এবং রাইট উইঙ্গার হুয়ান কার্লোস মুনোজ। “লা মাকুইনা” সূচনাটা এই ৫ জনের প্রথম একসাথে খেলা থেকেই ধরা হয়ে থাকে।

তরুন পেডেরনেরা ১৯৩৫ সাল থেকে রিভার প্লেটে খেললেও সেসময়কার অন্যতম সেরা আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড রবার্তো ডি আলেসান্দ্রোর জন্যে মূল একাদশে সুজোগ পেতেন না, পেলেও সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে না। আলেসান্দ্রোর বিদায়ের পর ১৯৪১ সাল থেকে পেডেরনেরা রিভারের সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনটি নিজের করে নেন। “এল গ্রাফিকো” খ্যাত হোসে ম্যানুয়েল মরেনোও পেডেরনেরার মতো ১৯৩৫ সাল থেকে রিভারের প্লেয়ার, কিন্তু পেডেরনেরার মতো মরেনোরও প্রতিভার দেখানোর সুযোগ পান ফেরেইরা, আলেসান্দ্রোদের বিদায়ের পর থেকে। মরেনো কিছুদিন দলের মেইন স্ট্রাইকার হিসেবে খেললেও ১৯৩৯ সালে অভিষিক্ত হওয়া এঞ্জেল লাবুর্না নামক ২১ বছর বয়সী এক লিথ্যাল স্কোরারের কাছে দলের মেইন স্কোরার রোলটি হারান! টার্গেট ম্যান থেকে সাপোর্টিভ স্ট্রাইকার বনে যাওয়া মরেনো এরপরে জাস্ট একজন ইনসাইড ফরোয়ার্ড ছিলেন না, বরং স্তেফানো-ক্রুইফদের মতোন মোস্ট কমপ্লিট ফুটবলারদের অগ্রদূতে পরিনত হয়েছিলেন!১৯৪২ সালে দেপোর্তিভো ডক সুড থেকে রিভারে যোগ দেন গতিশীল, এনার্জেটিক লেফট উইঙ্গার ফেলিক্স লোস্তাউ, এবং লোস্তাউর আগমনের পর থেকেই মূলত সেই দুর্দান্ত দলটির ঐতাহাসিক যাত্রা শুরু হয় . . . . . ., ,১৯৪১-৪২ মৌসুমে, আর্জেন্টাইন প্রিমেরা “আপার্তুরা” র ৮ম রাউন্ডে ঘরের মাঠ এল মনুমেন্টালে চাচারিতা জুনিয়র্সের বিপক্ষে প্রথমবারের মতোন একত্রে খেলতে নামেন রিভার প্লেটের সেই পঞ্চপান্ডব! শৈল্পিক আক্রমনের ঢেউ তুলে চাচারিতার বিপক্ষে ৬-২ গোলের বিধ্বংসী জয় তুলে নেয় রিভার প্লেট! সেই ম্যাচের পর আর্জেন্টাইন মিডিয়া রিভারের নিরলস আক্রমনকে যন্ত্রের সাথে তুলনা দিয়ে তাঁদেরকে “লা মাকুইনা” মানে “The Machines” উপাধি দেয়।”লা মাকুইনা” র উপর ভর করে রিভার ১৯৪১-৪৭ এই সময়টায় জিতে নেয় ৪ টি আর্জেন্টাইন প্রিমেরা, দুবার অল্পের জন্যে হয় রানার্সআপ। অবশ্য ১৯৪১ এ লোস্তাউর জায়গায় আরিস্তওবুলো দিয়ামব্রসি নামে আরেকজন টপক্লাস ফরোয়ার্ড ছিলেন রিভার প্লেটে। এবং ১৯৪৬ এ পেদেরনেরার জায়গায় আসেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার আলফ্রেদো ডি স্তেফানো, এবং পেদেরেনেরার বদলে স্তেফানোকে নিয়েই ৪৭ এর প্রিমেরা জিতে রিভার প্লেট। আর্জেন্টাইন প্রিমেরা বাদেও “লা মাকুইনা” র হাত ধরে ১৯৪১, ১৯৪২ এর কোপা ইবার্গুরেন আর ১৯৪৫ এর কোপা এস্কোবার টাইটেল জিতে রিভার প্লেট।, ,কেমন ছিল “লা মাকুইনা” র ফার্স্ট টিম এবং তাঁদের ট্যাক্টিক্স?!?বিখ্যাত পঞ্চপান্ডবকে সামনে রেখে তৎকালীন ২-৩-৫ সিস্টেমে লা মাকুইনার বিখ্যাত একাদশটি ছিল এরকম -সরিয়ানোভাঘি-ফেরেইরা ইয়াচানো-রুডলফ-রামোস মুনোজ-লাবুর্না-পেদেরনেরা-মরেনো-লৌস্তাউসেসময়কার ফুটবলে ২-৩-৫ ফর্মেশনের একজন মিডফিল্ডার (ততকালীন সেন্টার হাঁফ) বল পজেশন না থাকলে নিচে নেমে থ্রী-ম্যান ব্যাকলাইন ক্রিয়েট করতেন, এন্ড এই রিভার প্লেটে এই কাজটা করতেন ইয়াচানো। তবে সেই সেন্টার হাফরা এখনকার সিবিদের মতোন সেন্টার এরিয়া ডিফেন্ড করলেও ইয়াচানো মূলত ওয়াইড এরিয়া ডিফেন্ড করতেন ফুলব্যাকদের মতোন, ডিফেন্ডার ফেরেইরাও সেইমভাবে ওয়াইড এরিয়া ডিফেন্ড করতেন। কেবল ঠান্ডা মাথার রিকার্ডো ভাঘি কভার করতেন সেন্টার এরিয়া প্রতিপক্ষ সেন্টার ফরোয়ার্ডকে মার্কিং এর মাধ্যমে। এই ভাঘি আবার অফসাইড ট্র্যাপে ফেলতেও দারুনভাবে দক্ষ ছিলেন, যা সেই সময়কার ফুটবলের তুলনায় এডভান্সড ট্রিক্স ছিল! লা মাকুইনার বিল্ড-আপটাও শুরু হতো এই ভাঘির এংকর রোল প্লে করার মাধ্যমে।লা মাকুইনার মিডফিল্ড হার্টে এখনকার ডাভল পিভটের মতোন সার্ভিস দিতেন রামোস-রুডলফ জুটি। জোসে রামোস যখন এখনকার পিরলো-বুস্কেটসের মতোন ডীপলায়িং প্লে-মেকারের মতোন নিচ থেকে বল সাপ্লাই দিতেন, তখন ব্রুনো রুডলফ কান্তে-ক্যাসেমিরোর মতোন ব্যাকলাইনের সামনে শিল্ড হয়ে থাকতেন এবং রামোসকে কভার দিতেন। তবে ছোট ছোট পাস নির্ভর “লা মাকুইনা” র প্লে-মেকিং এই দুজনই কেবল করতেন না! ফরোয়ার্ড লাইন থেকে নিচে নেমে প্লে-মেকিং এ সাহায্য করতে নিয়ম করেই নিচে নামতেন সেন্টার ফরোয়ার্ড পেদেরনেরা এবং রাইট ইনসাইড ফরোয়ার্ড হোসে মরেনো!,বলা হয়ে থাকে “লা মাকুইনা” র ফ্রন্ট ফাইভের কারোর কোন ফিক্সড পজিশন ছিল না! তাঁরা নিজদের মাঝে টেলিপ্যাথিক যোগাযোগের মাধ্যমে এমনভাবে পজিশন অদল বদল করতেন যে তাদেরকে ইন্ডিভিজ্যুয়ালি মার্ক করা অনেক কষ্টসাধ্য ছিল! সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশন থেকে প্রতিপক্ষের সেরা ডিফেন্ডার, ম্যান মার্কারকে ড্র্যাগ করে আউট অফ পজিশন করার দায়িত্বটা খুব নিখুত ভাবেই সারতেন আডোলফো পেডেরনেরা। পেদেরনেরা ছিলেন ৫৪’র হাঙ্গেরীর হিদেকুটি কিংবা বার্সেলোনার মেসির “ফলস নাইন” রোলেরই অগ্রদূত! “ম্যাজিকাল ম্যাগায়ার্স” দের হাঙ্গেরীতে হিদেকুটি ঠিক যেভাবে পুস্কাস-ককসিসদের জন্যে স্পেস ক্রিয়েট করতেন, ঠিক একিভাবে লাবুর্না-মরেনোদের জন্যে স্পেস ক্রিয়েট করতেন “ফলস নাইন” পেদেরনেরা, হিদেকুটির ও অন্তত ১০ বছর আগে! একজন গ্রেট “ফলস নাইন” হবার মতো অফ দ্যা বল মুভমেন্ট, ডিসিশন মেকিং, বল কন্ট্রোল, প্লে-মেকিং, ড্রিবলিং, স্কোরিং এবিলিটি সবই ছিল পেদেরনেরার!হোসে মরেনো ছিলেন পঞ্চপান্ডবের মধ্যে ফিজিক্যালি সবচেয়ে স্ট্রং, সবচেয়ে বেশি এনার্জেটিক, এরিয়ালি বিস্ট, স্কিলফুল ড্রিবলার, একজন লিথাল গোলস্কোরার এবং দারুন পাসিং রেঞ্জের অধিকারি! মরেনো জাস্ট পেদেরনেরার মতোন নিচে নেমে প্লে-মেকিং ই করতেন না, ডিফেন্সিভ ওয়ার্করেট ও দিতেন দারুনভাবে! এটাকিং মিডফিল্ড পজিশনে খেলে বল হোল্ড করে টিমমেটদের জন্যে স্পেস ক্রিয়েট এবং বল ডিস্ট্রিবিউশনের মতো ক্লাসিক এনগাঞ্চে রোলটাও খুব ভালো প্লে করতেন মরেনো। মোট কথায় পুরোই কমপ্লিট প্যাকেজ, একজন আদর্শ টোটাল ফুটবলার – যেই টোটাল ফুটবলের নিদর্শন দেখা গেছে পরবর্তীতে কেবল ডি স্তেফানো এবং ইয়োহান ক্রুইফের মধ্যে!মরেনো এবং পেদেরনেরার ক্রিয়েট করা স্পেসের পুরোটা কাজে লাগাতেন সুজোগসন্ধানী এঞ্জেল লাবুর্না! দুই উইং ধরে মুনোজ এবং লৌস্তাসের ক্ষীপ্রগতির দৌড়, ড্রিবলিং এবং বক্সে বল ফেলা, লাবুর্নার জন্যে গোল করার কাজটা আরো সহজ করে দিতো! তবে গোল সব লাবুর্না একাই করতেন না! মিডফিল্ড থেকে রান মেইক করে বক্সে সময়মতো হাজির হয়ে যেতেন পেদেরেরা-মরেনোও! উইঙ্গার হলেও লোস্তাও-মুনোজ পজিশন সোয়াপের সুবিধা নিয়ে গোলস্কোরিং পজিশনে চলে আসতেন। আবার বল হারালে আবার এই লোস্তাও-মুনোজ ই দৌড়ে নিজদের হাফে চলে আসতেন ডিফেন্সে সহায়তা করতে! “ফ্যাটিগ” শব্দটা হয়তোবা “লা মাকুইনা” দের অভিধানে ছিল না!!!, ,শুরুতেই বলেছিলাম, “ট্যাঙ্গো” র সেরা দল ছিল এই “লা মাকুইনা”। কারন রিভার প্লেটের এই যন্ত্রমানবরাই প্রকৃতপক্ষে “ট্যাঙ্গো” ফুটবলকে ডিফাইন করেছিলেন! “বল পায়ে রেখে বল পায়ে থাকা সময়টা উপভোগ করা” এবং “গোলের নিশ্চিত সুযোগ আসলেই কেবল গোলের জন্যে ঝাপানো” – ট্যাঙ্গোর এই প্রাচীন মূলনীতি শক্ত ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন পেদেরনেরারা, যা আধুনিক বার্সেলোনার তিকিতাকাতেও বর্তমান!নিজদের খেলার স্টাইল নিয়ে পঞ্চপান্ডবের অন্যতম সদস্য হুয়ান কার্লোস মুনোজ ব্যাখা করেছিলেন -“আমাদেরকে বলা হতো #Knight_of_Anguish, কারণ আমরা কখনো গোলের জন্যে খেলতাম না! আমরা কখনোই ভাবতাম না যে আমরা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল পাবো না! আমরা মাঠে যেতাম, বল নিজদের দখলে নিতাম, একজন আরেকজনকে বল দিতাম, বল পায়ে স্কিল দেখিয়ে, ড্রিবলিং করে সময়টা উপভোগ করতাম – এবং এটা করতে করতেই আমরা একটা সময় গোলের দেখা পেয়ে যেতাম!””সাধারনত আমাদের গোলের দেখা পেতে অনেক দেরি হতো, তাঁরা এতে ধৈর্জহারা এবং বিরক্ত হতো যে কেন আমরা তাড়াতাড়ি আক্রমনটা শেষ করছি না! হ্যা, আমরা অবশ্যই বক্সের ভিতরে নিশ্চিত হয়ে গোল করতে চাইতাম, কিন্তু মধ্যমাঠে আমরা বল নিয়ে মজা করতেই বেশি উপভোগ করতাম! আমাদের কোন তাড়াহুড়া থাকতো না, গোল তাঁর স্বভাবমতোই চলে আসতো!”, ,আশ্চর্জজনক হলেও সত্য, “লা মাকুইনা” খ্যাত রিভার প্লেটের আধিপত্য প্রায় ৬-৭ বছর থাকলেও, লাতিন ফুটবলের সর্বকালের সেরা এই ফ্রন্ট ফাইভ (হয়তোবা পুরো বিশ্বেরই সর্বকালের সেরা ফ্রন্ট ফাইভ) একসাথে ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ১৮ টি! হ্যা এই সময়টায় রিভার প্লেটে প্রথমদিকে ডি আলেসান্দ্রো, ডিয়ামব্রসি এবং পরবর্তীতে ডি স্তেফানোর মতোন ফরোয়ার্ড খেললেও “লা মাকুইনা” বলতে এই বিখ্যাত পঞ্চপান্ডবের একসাথে খেলার সময়টাকেই মোটা দাগে বুঝানো হয়! এই ৬-৭ বছরে ৪ টি লীগ টাইটেল, ৩ টি কাপ টাইটেল “লা মাকুইনা” র শক্তিমত্তার সম্পূর্নভাবে প্রতিফলিত করে না! পঞ্চপান্ডবের একসাথে খেলা ম্যাচের সংখ্যা কম হওয়া প্লাস সেসময়ে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসর “কোপা লিবার্তদরেস” এর সূচনা হওয়াটাও সেই ঐতিহাসিক রিভার প্লেট দলটার সাফল্য কম পাওয়ার অন্যতম কারন!তবে “লা মাকুইনা” তার প্রাপ্য খ্যাতি অর্জন করা থেকে বঞ্চিত হয়েছে মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐ ভয়ংকর সময়টার কারনে! লাতিন ক্লাবগুলির মধ্যে সবচেয়ে ঐতিহাসিক দল ধরা হয় ৬০’র দশকের পেলের সান্তোসকে, যেই সান্তোস ঘরোয়া লীগে টানা ৫-৬ বছর ডমিনেট করার পর টানা দুটি কোপা লিবার্তদরেস এবং দুটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতেছিল! সেসময় সান্তোস বেশ কয়েকবার ইউরোপে ট্যুর ম্যাচ খেলে হারায় ইউরোপের বাঘা বাঘা কিছু টিমকেও। কিন্তু “লা মাকুইনা” র দুর্ভাগ্য সেসময় না ছিল ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ, না ছিল কোপা লিবার্তদরেস! বিশ্বযুদ্ধে ডুবে থাকা ইউরোপিয়ানরাও আর্জেন্টিনা কিংবা লাতিনে কোন সফর করেনি, রিভার প্লেট ও আটলান্টিক পেরিয়ে ইউরোপে খেলতে যায় নি! ভিন্ন স্টাইলের পাওয়ার ফুটবলের ইউরোপিয়ানদের বিপক্ষে খেলার সুযোগই হয় নি লা মাকুইনার! সেসময় রিভার প্লেটের খেলা না দেখানো হত টিভিতে, না শুনানো হতো রেডিওতে! ইউরোপিয়ান মিডিয়াতেও যুদ্ধের দামামায় স্থান পেত না লাতিন ফুটবলের কোন খোজ-খবর! বুয়েন্স আয়ার্সের আয়তকার সবুজ ভূমিতে “লা মাকুইনা” র সেইসব অবিশ্বাস্য শৈল্পিক কীর্তিগুলি “মিথ” এই পরিনত হতে থাকে . . . . ., ,মহাদেশীয় কিংবা বৈশ্বিক শিরোপা না জিতা কিংবা ইউরোপিয়ানদের মুখোমুখি না হওয়া লা মাকুইনা যে সুযোগ পেলে সান্তোসের চেয়ে কম সফল হতো না, সেই সিদ্ধান্তে আসা যায় কিছু আপেক্ষিক তুলনার মাধ্যমে! ১৯৪৬ সালে রিভার প্লেটের থেকে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে আর্জেন্টাইন প্রিমেরা জেতা সান লরেঞ্জো ইউরোপ ট্যুরে হারায় বেশ কয়েকটি টপ লেভেল ইউরোপিয়ান টিমকে এবং ইউরোপিয়ান মিডিয়ার প্রশংসাও কুড়ায় ভালো। নান্দনিক ফুটবল খেলে দাপটের সাথে জিতলেও সেই সান লরেঞ্জো পিক ফর্মের “লা মাকুইনা” র লেভেলে ছিল না!৪০’র দশকে লাতিনের সেরা ন্যাশনাল টিম ছিল আর্জেন্টিনা, এই দশকের ৬ টি কোপা আমেরিকার ৪ টিই জিতে নেয় আলবিসেলেস্তেরা! দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল-উরুগুয়ের বিপক্ষে এই দশকে ২৫ ম্যাচের ১৬ টিই জিত আর্জেন্টিনা! রিভার প্লেটের বিখ্যাত ফ্রন্ট ফাইভ এসময়টায় আর্জেন্টিনার সেরা হলেও ইঞ্জুরি কিংবা অজানা কোন কারনে ন্যাশনাল টিমে একসাথে খেলার সুযোগ পেতেন না বেশি। তারপরেও ১৯৪১, ৪৫, ৪৬ এবং ৪৭ এর কোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখেন লা মাকুইনার সদস্যরা! লা মাকুইনার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের সবচেয়ে বড় মঞ্চ হতে পারতো বিশ্বকাপ – কিন্তু বিশ্বযুদ্ধ নামক অভিশাপের কারনে ৪০’র দশকে যে কোন বিশ্বকাপই হয় নি!!! লা মাকুইনার সেই যান্ত্রিক শিল্পীরাও বিশ্বমঞ্চে নিজদের জাত চেনাতে পারেন নি . . . .,বিশ্বযুদ্ধের কারনে রিভার প্লেট যেমন বৈশ্বিক আসরে নিজদের জাত চেনাতে পারেনি, আর্জেন্টিনা যেমন পারেনি নিজদের সেরা সময়ে বিশ্বমঞ্চে নিজদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে – তেমনি পেদেরনেরা, মরেনো, লাবুর্নারাও পারেননি পেলে, ম্যারাডোনা, স্তেফানো, গ্যারিঞ্চাদের মতোন ফুটবলের কিংবদন্তী হতে! পেদেরনেরাদের উত্তরসূরীরা ঠিকই পরবর্তীতে ইউরোপ এবং বিশ্ব ফুটবল মাতান। আর্জেন্টাইন ফুটবলের বিদ্রোহের সুবাদে ৫০’র দশকে ইউরোপ পাড়ি জমান ডি স্তেফানো, নেস্টর রসি, ওমর সিভরি, মাশ্চিও, এঞ্জেলিলিওর মতোন তারকা ফুটবলাররা, এবং তাঁরা সকলেই ইউরোপিয়ান ফুটবলে কমবেশি সফল ছিলেন। ওমর সিভোরি জুভেন্টাসের হয়ে জিতেন ৪ টি সিরি-আ টাইটেল, একটি সিরি-আ গোল্ডেন বুট এবং প্রথম আর্জেন্টাইন হিসেবে ব্যালন ডি’অর। আর ডি স্তেফানো তো রিয়াল মাদ্রিদকে টানা ৫ ইউসিএল জিতিয়ে ফুটবলেরই অলটাইম বেস্টদের একজন হয়ে যান!কিন্তু সেসময়কার আর্জেন্টাইন দর্শকদের কাছে স্তেফানো, সিভোরি, রসিদের চেয়ে পেদেরনেরা, মরেনোরাই এগিয়ে ছিলেন সবসময়!!!.ডি স্তেফানোকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তার দেখা সেরা ফুটবলার কে? উত্তরে তিনি বলেছিলেন – “মুনোজ, লাবুর্না, পেদেরনেরা, মরেনো, লোস্তাও – এই ৫ জনই আমার দেখা সেরা ফুটবলার!”.১৯৫০’র বিশ্বকাপ ফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার পূর্বে উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার অব্দুইলো ভারেলাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল – “তুমি কি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডদের নিয়ে ভীত?”ভারেলার উত্তরটা ছিল এরকম – “ভীত?!? আমি আডোলফো পেদেরনেরার বিপক্ষে খেলেছি! এবং তারমতো আর কেউ নেই!”.আর্জেন্টিনা ফুটবল ইতিহাসের সেরা কজন ফুটবলারের নাম নিতে গেলে আপনার মাথায় সবার আগে ম্যারাডোনা, মেসি, স্তেফানো, কেম্পেসদের নাম আসবে। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না IFFHS এর জরিপে বিংশ শতাব্দীর সেরা ৫ জন লাতিন ফুটবলারের তালিকায় পেলে, ম্যারাডোনা, গ্যারিঞ্চা এবং স্তেফানোর ঠিক পরের স্থানটিতেই আসেন “লা মাকুইনা” র “ফুসফুস” খ্যাত হোসে ম্যানুয়েল মরেনো! রোমারিও, জিকো, কেম্পেস, দিদিদের মতোন কিংবদন্তীদের পিছনে ফেলে ৫ম সেরা লাতিন ফুটবলার হওয়া মরেনো নিশ্চিতভাবেই পেলে, ম্যারাডোনা, গ্যারিঞ্চাদের লেভেল থেকে পিছনে ছিলেন না! ৪৭’র কোপা আমেরিকার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া মরেনোর ক্যারিয়ার জুড়ে মাদকাসক্তি আর অনিয়মবর্তীতার অভিযোগ থাকলেও ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ৪ টি ভিন্ন দেশের লীগ জেতার রেকর্ড ঠিকিই গড়েন এই মরেনো।.তবে “লা মাকুইনা” নিয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তিটি আসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বোকা জুনিয়র্স শিবির থেকে। তৎকালীন বোকা জুনিয়র্সের সেরা তারকা আর্নেস্টো লাজাত্তি লা মাকুইনা সম্পর্কে বলেছিলেন -“আমি তাদেরকে (লা মাকুইনা) হারানোর পূর্ন উদ্দেশ্য নিয়েই মাঠে যেতাম। কিন্তু একজন সত্যিকারের ফুটবল ফ্যান হিসেবে মাঠে বসে তাদের খেলা উপভোগ করাটাকেই আমি প্রাধান্য দিতাম!”, ,লা মাকুইনার শেষটা ধরা হয় মূলত ১৯৪৬ সালে পেদেরনেরার অবসর গ্রহনের সময়টাকে। অবশ্য তার আগেই ১৯৪৪ এ ডিফেন্ডার ফেরেইরার সাথে “পঞ্চপান্ডব” এর অন্যতম হোসে মরেনো দল ত্যাগ করেন, তবে ১৯৪৬ সালে আবারো সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে দলের এসে পেদেরনেরার জায়গায় ডি স্তেফানো সঙ্গী করে আর্জেন্টাইন প্রিমেরা টাইটেল পুনরুদ্ধার করেন। লোস্তাস, লাবুর্নারা আরো দীর্ঘসময় রিভার প্লেটে থাকলেও পারিশ্রমিক নিয়ে খেলোয়াড়দের বিদ্রোহে যোগ দিয়ে স্তেফানো, নেস্তর রসিরা কলম্বিয়া পাড়ি জমালে শেষ হয় রিভার প্লেটের প্রায় এক দশকের অধিপত্য . . . . .,প্রতিটি গ্রেট ক্লাব দলের ইম্প্যাক্ট তাদের ন্যাশনাল টিম ও পেয়ে এসেছে। সান্তোসের সোনালী সময়ে যেমন সান্তোসের বাইরে থাকা গ্যারিঞ্চা, দিদি, ভাভারা মিলে ব্রাজিলকেও একটা সোনালী সময় উপহার দেন। তেমনি ক্রুইফের আয়াক্সের সোনালি সময়ের সুবিধাটা পায় ৭০’র দশকের নেদারল্যান্ডস, বোকেনবাউয়ের-মুলারদের বায়ার্ন মিউনিখের সুবিধা পায় একই সময়ের জার্মানি, গার্দিওলার বার্সেলোনার সাফল্য নিজদের করে নেয় স্পেন টানা কবছর সাফল্যের চূড়ায় থেকে। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধের অভিশাপে নিজ দেশের ক্লাব রিভার প্লেটের সোনালী সময়টা নিজদের করে নেওয়া থেকে বঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা! আর্জেন্টিনার সেরা সময়টায় (৪২-৪৬) আয়োজিত হয়নি কোন বিশ্বকাপ! পেদেরনেরা, মরেনো, লাবুর্নারা ক্লাব রাইভাল লাজাত্তি, মেন্দেজদের সাথে এক ড্রেসিং রুম শেয়ার করে মাতাতে পারেননি কোন বিশ্বমঞ্চ! খেলোয়াড় বিদ্রোহে সেরা সময়ের ডি স্তেফানো, নেস্তর রসি, করবাত্তা, ওমর সিভোরিদের নিয়ে ৫০ এবং ৫৪ বিশ্বকাপ না খেলার দুর্ভাগ্যটা নাহয় বাদই দিলাম . . .ইউরোপ সহ ফুটবল বিশ্বের বাকিদের কাছে “লা মাকুইনা” একটা অদেখা মিথ হতে পারে! কিন্তু, একজন আর্জেন্টাইন ফ্যানের কাছে সবচেয়ে আকর্ষনীয়ভাবে ট্যাঙ্গো ফুটবল খেলা, টোটাল ফুটবলের অগ্রদূত “লা মাকুইনা” সবসময়েই আর্জেন্টিনা ইতিহাসের সেরা দল এবং চিরন্তন আক্ষেপের নাম হয়ে থাকবে . . . . .

Similar Posts