Sunday, 24 Jun 2018

দেশের মাঠের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় হাইতির ‘ওয়েডসন আনসালামে’

বাংলাদেশ এর ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় এখন ৩১ বছর বয়সী হাইতিয়ান উইংগার/স্ট্রাইকার ওয়েডসন আনসালামে। তাকে রেকর্ড পরিমান বেতনে দলে ভিড়িয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের নবাগত দল ” সাইফ স্পোর্টিং ফুটবল ক্লাব! ”

সম্প্রতি ইন্ডিয়ার আই লিগে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী দল ” ইস্ট বেংগল ” এ এক সিজন খেলেছেন তিনি। সেখানে ১৪ ম্যাচে ৮ গোল করে বেশ সাড়া ফেলেছিলেন তিনি। আর এরই ধারাবাহিকতায় ইস্ট বেংগলের সাথে এই সিজনের চুক্তি শেষ হওয়া মাত্রই তার সাথে চুক্তি করে বাংলাদেশের লিগের নবাগত দল সাইফ স্পোর্টিং ফুটবল ক্লাব। দেশের মাটিতে রেকর্ড ১৩ হাজার ডলার প্রতি মাসের চুক্তি করেছে দলটি। আপাতত চুক্তি ৬ মাসের জন্য। ৬ মাসে ৭৮ হাজার ডলারের চুক্তিতে আবারো ঢাকার মাঠ কাপাবেন এই হাইতিয়ান স্ট্রাইকার। তবে সামনে আলোচনা সাপেক্ষে চুক্তির মেয়াদ বাড়তে পারে।

ওয়েডসন আনসালামের বিদেশে খেলার ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১৩ সালের সিজনে বাংলাদেশেরই ক্লাব ‘ শেখ জামাল ধানমন্ডি ‘ এর হয়ে হয়ে। সেখানকার আরেক হাইতিয়ান স্টার সনি নর্দের মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয় বিদেশের মাঠের ফুটবল ক্যারিয়ারের।
ওয়েডসনের পুরো নাম – শুকুর ওয়েডসন আনসালামে। জন্ম হাইতিতে ১৯৮৬ সালের ৪ই এপ্রিল। বাবা এবং মা দুইজনই হাইতিয়ান।

দরিদ্র পরিবারে জন্মানো হাইতিয়ানের ফুটবলের ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১১ সালে স্থানীয় ক্লাব Aigle Noir AC এর মাধ্যমে।। সেখানে ২ সিজন খেলে যোগ দেন ডোমিনিকান ক্লাব San Cristóbal এ। যদিও এটি বিদেশের মাটিতে তার প্রথম ক্লাব কিন্তু এটি অফিশিয়াল ছিল না; যদিও উইকিপিডিয়াতে তার ক্যারিয়ারের সাথে এই ক্লাবেরও নাম আছে। এই ক্লাবে ২০১৩ সালে যোগ দিয়েই আবার ওই সিজনেই ব্যাক করেন তার পুরোনো ক্লাব আইগলি নর এনসিতে। সেখান থেকেই ২০১৩ সালে চলে আসেন এশিয়ান ক্লাব বাংলাদেশের শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের স্টার প্লেয়ার তারই দেশের সতীর্থ্য সনি নর্দের মাধ্যমে তার এই দেশে আসা। আর এটিই তার ক্লাব ক্যারিয়ারের অফিশিয়াল বিদেশের ক্যারিয়ার। এখানে ৩ সিজন খেলেই ২০১৭ সালে যোগ দেন ইন্ডিয়ার ঐতিহ্যবাহী কলকাতার সফল দল ইস্ট বেংগল ক্লাবে। সেখানে আই লিগে এক সিজন খেলেই আবারো ফিরে আসেন বাংলাদেশে। আর সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবে যোগ দেওয়ার মাধ্যমেই হয়ে যান বাংলাদেশের ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়। আর তার ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সময় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে। সেখানে ৩ সিজনে করেন প্রায় ৬০ গোল।

ওয়েডসনের জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিষেক হয় ২০১২ সালে গুয়েনার সাথে এক ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে। এছাড়া ২০১৬ তে হয়ে যাওয়া ‘ কোপা আমেরিকা ‘ তে বাছাই পর্বেও ছিলেন হাইতির জাতীয় দলের হয়ে।
তার ক্যারিয়ারের সফলতা গুলো হলো –
১। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের হয়ে ২বার লিগ জিতা।
২। ২ বার শেখ জামাল এর হয়ে কনফেডারেন্স কাপ জিতা।
৩। শেখ জামালের হয়ে ভুটানে অনুষ্ঠিত কিংস কাপ জিতা। যার তার প্রথম ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব সাফল্য।
৪। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দুইবার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *