Sunday, 24 Jun 2018

বিদায় অভিশপ্ত ব্রিটিশ রাজপুত্র

লিভারপুল ইতিহাসের সর্বকালের সেরাদের একজন।
সর্বকালের সেরা ইংলিশ মিডফিল্ডার দের একজন। সর্বকালের সেরা লং শুটার।
সর্বকালের অন্যতম ওয়ান ক্লাব প্লেয়ার।
সর্বকালের অন্যতম অভিশপ্ত ফুটবলার।সবগুলোকে মিলান।
কাকে পেলেন?

স্টিভেন জেরার্ড, ইতিহাস যাকে চেনে ৮ নাম্বার লাল জার্সি আর হাতে লিভারপুল নামক ক্লাবের ক্যাপ্টেনের আর্মব্যান্ড পড়া এনফিল্ডের রাজকুমার হিসেবে, কোন এক অদেখা অভিশাপে অভিশপ্ত লিভারপুল বরপুত্র!স্ট্যাটিস্টিকস আপনাকে স্টিভেন জেরার্ড কে বোঝাবে না। তবুও দিচ্ছি, লিভারপুলের হয়ে ১৭ সিজনে ৭১০ ম্যাচে ১৮৬ গোল, ৯২ এসিস্ট। লা গ্যালাক্সির হয়ে ৩৮ ম্যাচে ৬ গোল। লিভারপুল এর হয়ে ট্রফি ৯টি, একটি চ্যাম্পিয়নস লীগ, ১টি উয়েফা কাপ, ২টি এফএ কাপ, ৩টি লীগ কাপ এবং ২টি কমিউনিটি শিল্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে ১১৪ ম্যাচে ২১ গোল, অধিনায়কত্ব করেছেন ২০১৪ বিশ্বকাপে।

জন্ম ১৯৮০ সালের ৩০ মে, ১৯৮৭ সালে লিভারপুল একাডেমী তে যোগদান, সেই যে এনফিল্ডের সাথে প্রেম করা শুরু করলেন, তা আজও শেষ হয়নি।

প্রথম সিনিয়র কন্ট্রাক্ট ১৯৯৭ এ, অভিষেক ১৯৯৮ এ, ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স এর সাথে সাবস্টিটিউট হিসেবে। সেই যে একবার নামলেন, এরপরের ১৭ বছর লাল জার্সি টা বারবার গায়ে চড়াতেই থাকলেন! খেলতেন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে, তবুও ভূড়ি ভূড়ি গোল, এর মধ্যে চোখ ধাধানো গোল প্রচুর। কিন্তু আসলেই কি স্টিভেন জেরার্ড কে সেই স্ট্যাট গুলো বোঝাতে পারে? উহু, একটু ও না। স্টিভেন জেরার্ড কে চিনতে হলে অনেক কিছুই করা লাগবে!

২০০৪-০৫ চ্যাম্পিয়নস লীগে পরের রাউন্ডে যেতে ৩-১ তে জেতা দরকার লিভারপুলের, ২-১ এ এগিয়ে লিভারপুল, জেরার্ড একটা শট করলেন, শটটা দেখে মনে হচ্ছিলো, মিসটাইমড শট, বলটা যে সাইডফুটে লেগেছে! শটটা গোল হয়েছিলো। স্লো মোশন রিপ্লেতে দেখা গেলো, বলটা স্টিভেন জেরার্ড ইচ্ছে করেই ওভাবে মেরেছিলেন। কিছু বলবেন?

২০০৬ এফএ কাপ ফাইনাল, অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহুর্তই সম্ভবত। ওয়েস্ট হ্যাম ৩-২ এ এগিয়ে, লিভারপুলের কার যেন ক্রস ক্লিয়ার করল ওয়েস্ট হ্যাম ডিফেন্স, ৩৫ গজ দূরে দাঁড়িয়ে থাকা লিভারপুল অধিনায়ক জেরার্ড এর দিকে বলটা যাচ্ছে, ফার্স্ট টাইম মারলেন। গোল!! ৩-৩ আর তারপর টাইব্রেকার এ এফএ কাপ লিভারপুলের। ট্রফিটা স্টিভেন জেরার্ডের হাতে।

ওই গোলটা সম্পর্কে এক ফুটবল বিশ্লেষক বলেছিলেন,

If that ball had fallen to any other Liverpool player on the field, West Ham win the FA cup. It falls to Gerrard, BOOM, Liverpool win the cup.

২০০৫ ইউসিএল ফাইনাল। ইস্তাম্বুল, তুরস্ক। এসি মিলান বনাম লিভারপুল। প্রথম হাফ শেষে এসি মিলান ৩-০ লিভারপুল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই, বক্সে বাস্কেটবল প্লেয়ার এর মত লাফিয়ে উঠে হেড। দিদা পৌছাতে পারলেন না, গোল। মিরাকল অফ ইস্তাম্বুল এর শুরু করে দিলেন। লিভারপুল ৩-৩ এ ড্র করলো, পেনাল্টি শুট আউট। লিভারপুল জয়ী। ৫ম বারের মত চ্যাম্পিয়নস লীগ ট্রফিটা এনফিল্ডে, আর ফেরত যাবে না। নিয়ে আসলেন সেই অধিনায়ক জেরার্ড, মার্সিসাইড বাসীর প্রাণের স্টিভি জি।

তবে কাটা হয়ে অনেক কিছুই থাকবে। কোন প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা নেই, চেলসির সাথে সেই বিখ্যাত স্লিপ, ফুটবল ইশ্বর আশীর্বাদের সাথে অভিশাপও দেন, অতি আশীর্বাদীরা তাই বড় বেশীই অভিশপ্ত হন! স্টিভেন জেরার্ড এর কাছে একগাদা ব্যাক্তিগত পুরষ্কার নেই। তবুও সর্বকালের সেরা মিডফিল্ডার দের লিস্টে এসে পড়বেন। বড় অদ্ভুত না?

মার্সেল ডিসেইলি তার সম্পর্কে বলেছিলেন,

A wonderful player. I can hardly think of another player who can deliver a shot with such perfection and beauty

প্যাট্রিক ভিয়েরা,

The best midfielder I would say is Steven Gerrard. He is so powerful and strong. He can attack, he can defend and he can score

পেলে,

Gerrard is an excellent player, absolutely world class. If I was a manager, everywhere I went I would buy Steven Gerrard. To me he is one of the best players in the world. He is an excellent player.

জিনেদিন জিদান,

Is he the best in the world? He might not get the attention like Messi or Ronaldo but, yes, I think he just might be. He gives the players around him confidence and belief. You can’t learn them – players like him are born with that kind of presence.

থিয়েরি হেনরি,

For me, and I have always said this, he will be regarded as one of the greatest midfielders ever when he finishes his career. He, for me, is Liverpool.

স্যার এলেক্স ফার্গুসন,

He has become the most influential player in England, bar none. He’s got that unbelievable engine, desire and determination. Anyone would love to have Gerrard in their team.

কার্লো আনচেলত্তি,

He is the complete midfielder. He can play as a holding midfielder, he has excellent shots, passes, skills. When I played, there were players like Giancarlo Antognoni and Rainer Bonhof. But today Gerrard, full stop.

স্টিভেন জেরার্ড কে তার সময়ের সেরা বলা হয়েছে বারবার, ছিলেন ও তাই। অবিশ্বাস্য এক অধিনায়ক ছিলেন, অবিশ্বাস্য এক প্রেমিক ছিলেন। প্রেমিকা ছিলো লিভারপুল, এনফিল্ড। ১৯৮৭ সালে শুরু প্রেম, মাঝখানে ২০০৪ সালে চেলসি বিচ্ছেদ ঘটাতে এসেছিলো, পারেনি। কতখানি ভালোবাসেন এনফিল্ডকে স্টিভেন জেরার্ড? তার একটা কথাতেই বুঝবেন।

When I die, Don’t bring me to the hospital. Bring me to Anfield, I was born there and I will die there.

এক গাদা শিরোপা নেই, একটা ও ব্যালন ডি অর বা ফিফা বর্ষসেরা নেই। বার্সা রিয়াল এ গেলে আরও কত কিছুই না পেতে! ১৭ বছর একজনকে ভালোবেসে প্রমান করে দিলে অনেক কম পেয়ে, অনেক কম জিতেও ভালবাসা যায়, এভাবেও ভালোবাসা যায়। মার্সিসাইড বাসীর প্রিয়পাত্র, তুমি আর আশা দেখাবে না?

৩৬ বছর বয়সী স্টিভেন জর্জ জেরার্ড, অবসর নিয়ে নিলে? আর কোনদিন তোমার মাঠের যেকোন জায়গা থেকে অবিশ্বাস্য গোল করতে দেখবো না? আর কোনদিন পিছিয়ে থাকা দলকে চিৎকার করে তোমার উদ্দীপিত করতে দেখা হবে না?

লিভারপুলের কোচ হওয়ার ইচ্ছা আছে সেটা বলেছেন, প্রেমিকা থেকে কে কতদিন দূরে থাকতে পারে? অপেক্ষায় রইলাম।

সেই লং রেঞ্জার, সেই আদিম উল্লাস, সেই লিভারপুল অধিনায়ক, তোমায় আর দেখা হবে না! মিস করবো, প্রত্যেকটা ফুটবল ফ্যান করবে, বহুদিন।

ধন্যবাদ, স্টিভেন জর্জ জেরার্ড, ধন্যবাদ সব কিছুর জন্য।

YOU WILL NEVER WALK ALONE, believe me, you won’t!

বিদায় অভিশপ্ত রাজকুমার, কিছু কিছু অভিশপ্তরা আশীর্বাদী দেরও হারিয়ে দেয়, তুমি তাদেরই একজন।
বিদায়।

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *