Sunday, 24 Jun 2018

চেঞ্চো গেইলসেন ও একজন মামুনুল

গত মৌসুমে চট্টগ্রাম আবাহনীর জার্সি গায়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছিলেন বাংলাদেশের মামুনুল ইসলাম এবং ভুটানের চেঞ্চো। ক্লাব তাদের একই ড্রেসিংরুমে জায়গা করে দিলেও মামুনুলের মনে কি জায়গা পেয়েছিলো চেঞ্চো? কারন এই চেঞ্চোর একার হাত ধরেই তো ১৭ মাসের লম্বা বিরতিতে চলে গিয়েছিলো বাংলাদেশ জাতীয় দল। র‍্যাংকিংয়ে ব্যর্থতার ডাবল সেঞ্চুরি ছুঁতে ছুঁতেও ছোঁয়া হয়নি। সে দলের অধিনায়ক হিসেবে তাই চেঞ্চোর প্রতি একটা ক্ষোভ মামুনুলের থাকতেই পারে।

ভুটানের মতন একটা দেশ যাকে কিনা বাংলাদেশ খুব একটা গোনায় পর্যন্ত ধরেনি কখনো সেই দেশ থেকে উঠে আসা চেঞ্চো গেইলসেন এখন কিনা সাউথ এশিয়ার অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। তাকে অনেকে আবার ডাকে ভুটানের রোনালদো বলে। ভুটানের এই রোনালদো বর্তমান সময়ে খেলছেন ভারতের জাতীয় লীগে। পাঞ্জাব দলটাকে অনেকটা একা হাতেই টেনে নিচ্ছেন ঠিক যেভাবে তিনি টানেন গোটা ভুটানের ভার।

ভুটানে বর্তমান সময়ে জাতীয় বীর চেঞ্চো। তাকে ঘিরে এই ছোট্ট দেশের মানুষ ফুটবল জগৎে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস পায়। যে বাংলাদেশের সাথে ভালো খেলাটাই মূল লক্ষ্য থাকতো তাদের হারিয়ে দেওয়ার দুঃসাহস দেখায়, দুঃসাহস দেখায় তাদের ফুটবল থেকে ১৭ মাসের জন্য সরিয়ে দেওয়ার।

অথচ এই বাংলাদেশেই কি ছিলো চেঞ্চো থেকে বড় সুপারস্টার হওয়ার যোগ্যতা রাখা খেলোয়াড়? ছিলো, অবশ্যই ছিলো। সে আর কেউ নন ভুটান বিপর্যয়ের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম।

একটা সময় ছিলো মামুনুল যেতেন আইএসএল এর মতো লীগে, লুইস গার্সিয়ার সাথে ড্রেসিং রুম ভাগাভাগি করতেন। তার জন্য ইউরোপিয়ান ক্লাবরাও শোনা যায় আগ্রহ দেখাতো। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মামুনুল যখন মাঝমাঠ সামলাতেন আশার সাগরে যেকোনো ফুটবল ভক্ত ভাসতে বাধ্য হতো। তার প্রতিটি ফ্রিকিক কিংবা কর্নার থেকে গোলের স্বপ্ন দেখতো বাংলাদেশ।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মামুনুল নিজের ধাঁর হারিয়েছেন। এখন আর মামুনুল পারেন না আশার জন্ম দিতে। দিলেও দিন শেষে তা হতাশায় রূপ নেয়। এই হতাশার বৃত্ত থেকে মামুনুল পারেন না বের হতে। কতটা চেষ্টা করেন বের হওয়ার সেটাও অজানা। তবে চেষ্টা নিশ্চয় করেন, করেন না তা না। তবে তাতেও খুব একটা সফল তিনি এমনটা বলা যাবে না।

হয়ত সফল হলে আজ চেঞ্চোকে দেখে হতাশ হয়ে বলতে হতো না, “আমাদের একজন মামুনুল ছিলো।” বলা যেতো, “আমাদেরও একজন মামুনুল আছে।”

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *