Saturday, 26 May 2018

ফ্রিটজ ওয়াল্টার – দুই জার্মানিকে একত্রিত করার মহানায়ক

ক্রেমলিনে অনির্ভার এবং সন্দেহাতীত পলিসির কারণে দ্যা প্যানেজার ডিভিশন থামাতে হতাশ হয়ে পড়ে হিটলার বাহিনী। কিন্তু এর ফলে ওয়েরম্যাচট রাশিয়ার রাজধানীর কাছাকাছি হলে কিছুটা সুবিধা পেয়ে যায় হিটলারের নাৎসী বাহিনী। এটাকে এক প্রকার শাপে বরই বলা যায়। ১৯৩৯ সালে পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে পুরো ইউরোপজুড়ে আগুনের তাণ্ডব ছড়িয়ে দেন হিটলার। তার নাৎসী বাহিনী ধীরে ধীরে পুরো ইউরোপজুড়ে আধিপত্য দেখাতে শুরু করে। শক্তভাবে প্রতিহত করার সাহসও তখন ছিল না কারও। এদিকে ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ড এই অরাজকতা থেকে অব্যাহতি দিলে কাজটা আরও সহজ হয়ে যায় হিটলারের জন্য। তিনি অপারশেন সিলন মুলতুবি ঘোষনা করেন ব্রিটেন আক্রমণ করার জন্য। সেখানেও পুরোদমে সফল হলে সমগ্র ইউরোপে আধিপত্য বিস্তারে একমাত্র বাধা তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন। অপারেশন “বারবারোসা” নামে শুরু করলেন রাশিয়া আক্রমণ। হিটলার খুব সাবধানে সবাইকে জানিয়ে দিলেন যে কোনো ভূল করা যাবে না এই শেষ স্টপেজে। তাই দীর্ঘ ৬ মাস ধরে ধীরে ধীরে আক্রমণ করতে থাকেন মস্কো। কিন্তু বিধিবাম এটাই ছিল হিটলারের দূর্ভাগ্য। রাশিয়ায় নেমে আসে প্রচন্ড শীত। হিটালারের ইগো এবং নির্বিকার সামরিক শক্তির কারণে বিতাড়িত হতে হয় মস্কো থেকে। এটাই ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট।

মস্কোতে ব্যর্থ হয়ে হিটলার এবার শুরু করলেন “সিটি বোর” নামে এক ভয়ংকর খেলা। প্রতিপক্ষ রাশিয়ান নেতা জোসেফ স্ট্যালিন, কিন্তু আবারো ভাগ্যের কাছে হার মানতে হয় হিটলারকে। ভলগা নদীর তীরে প্রচন্ড শীতের তীব্রতায় নাৎসী বাহিনীর অনেকাংশই ধ্বংস হয়ে যায়। ধ্বংস হয় তাদের গোলাবারুদ, খাবার রসদও। কিন্তু তারপরেও হিটলার আদেশ দেন আক্রমণ করার জন্য এবং কোনো ভাবেই যাতে তার নাৎসী পার্টি রণে ভঙ্গ না দেয়। হিটলারের এই একগুঁয়েমির কারণেই মূলত চিরতরে ধ্বংস হয়ে যায় নাৎসী পার্ট। মানুষের যখন পতন আসে, তখন পদে পদে ভূল হতে থাকে। হিটলারের বেলায়ও ঠিক একই রকম হয়েছে। পরবর্তীতে রাশিয়ানরা স্ট্যালিংগার্ড ধরে রাখে ফলে মস্কো নিরাপদ থাকে। এদিকে মিত্র শক্তি ইতালির সমস্ত শত্রুদের কুপোকাত করলে দীর্ঘ ৬ বছর পর এই রক্তক্ষয়ী, ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের অবসান ঘটে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় থেকেই জার্মানিতে ফুটবল জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। নিজেদের নৈতিক মূল্যবোধ সুউচ্চ রাখতে এবং নিজেদেরকে সুগঠিত করতেই ফুটবলকে বেছে নেয় জার্মানরা। তৎকালীন জার্মান ম্যানেজার সেপ হারবার্গার ছিলেন নাৎসী পার্টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাই নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে যুদ্ধের ময়দান থেকে খেলোয়াড়দেরকে তুলে আনেন দেশের হয়ে ফুটবল খেলানোর জন্য। তাঁর এই সাহসী এবং যুগোপযোগী সিদ্ধান্তই জার্মান ফুটবলকে চিরতরে পরিবর্তন করে দেয়।

যুদ্ধ থেকে ফিরিয়ে আনা খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন ছিলেন “ফ্রেডরিক ফ্রিটজ ওয়াল্টার”। ১৯৪০ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে ন্যাশনাল ম্যানশ্যাফটের হয়ে অভিষেক হয় তাঁর। দেশের হয়ে নিজের প্রথম ম্যাচেই হ্যাট্রিক করে বসেন রোমানিয়ার বিপক্ষে। মহানায়কের শুরুটা তো এভাবেই হয়েছিল।

মাত্র ৮ বছর বয়সে এফ সি কাইসের স্লেউটার্ণের ক্লাব একাডেমীতে যোগ দেন ওয়াল্টার। সেখানে অসাধারণ প্রতিভা দেখালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ডাই রোটেন টেউফেল এর হয়ে সিনিয়র ক্যারিয়ারের অভিষেক হয় তাঁর। ধীরে ধীরে ক্লাবটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন ফ্রিটজ। এ দেখে নিজেই অভিভূত হয়ে যান জার্মান বস হারবার্গার। অবিলম্বে জার্মান দলে ডাক পেলেন ওয়াল্টার। শুধু দলে খেলার সুযোগই না বরং হারবার্গের সবচেয়ে পছন্দের খেলোয়াড়ও ছিলেন এই তরুন ফ্রিটজ।

যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সর্বমোট ২৫টি ম্যাচের ২৩টিতেই খেলেন ওয়াল্টার। অসাধারণ পারফর্মেন্সে নজরও কাড়েন জার্মানবাসীর। ১৯৪১ সালের এপ্রিলে কোলোনে প্রায় ৭০,০০০ দর্শকের সামনে হাঙ্গেরীকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ওয়াল্টারের জার্মানি। ফিরতি ম্যাচ খেলতে বুদাপেস্ট পৌঁছায় জার্মান দল। হাঙ্গেরিয়ানরাও প্রস্তুত আগের লজ্জাজনক হারের প্রতিশোধ নিতে। ফলাফলস্বরূপ প্রথমার্ধেই ৩-১ গোলের লিড নিয়ে নেয় হাঙ্গেরী। বিরতিতে জার্মান বস হারবার্গার পুরো দলকে উজ্জীবিত করার চেস্টা করেন। এই ম্যাচে জার্মানরা যে এখনও জিততে পারে সেই আত্মবিশ্বাসের যোগানই দিচ্ছেন তিনি। হারবার্গার নিজেও জানতেন জয় নিয়ে না ফিরতে পারলে কোচের পদ থেকে তাকে বহিস্কার করা হবে। দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রিটজ ওয়াল্টারের নেতৃত্বে জার্মানি করে বসে চার গোল। ওয়াল্টার নিজেও করেন ২টি অসাধারণ গোল। হারবার্গার যেন এ যাত্রায় একটু সুখের ঢেকুর তুললো।

যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এবার ইউক্রেনিয়ান রিসেপশন সেন্টারে আরো ৪০,০০০ বিদ্রোহীর সাথে বন্দী হন ওয়াল্টার। তাঁর জীবন এখন সাইবেরিয়া এবং নিশ্চিত মৃত্যুর মাঝখানে। নিজের ভাগ্যকে মেনে নিয়ে ক্যাম্পে নিজের শেষ দিনগুলোতে একটু ফুটবল নিয়ে মাতা শুরু করলেন ওয়াল্টার। তাঁর বিশ্বাস ছিল ফুটবল হয়তোবা তাঁর জীবনকে বাঁচাতে পারবে। ওয়াল্টার এটাও লক্ষ্য করেন যে ক্যাম্পের গার্ডরা মাঝে মাঝে বিভিন্ন ফুটবল ম্যাচে অংশ নেয়। ক্যাম্পের সামনে আয়োজিত এক ফুটবল ম্যাচে হঠাৎ করে বলটি ওয়াল্টারের কাছে গেলে, নিজের খানিকটা স্কিল দেখিয়ে আবার বল পাঠালেন ম্যাচে খেলার জন্য। পরে তাঁকেও ম্যাচে আমন্ত্রণ জানায় গার্ডরা। এটাই তাঁর বেঁচে থাকার জন্য টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাড়ায়। ম্যাচশেষে এক গার্ড ওয়াল্টারকে জড়িয়ে ধরে বলে “আমি তোমাকে চিনে ফেলেছি। জার্মানি বনাম হাঙ্গেরী ম্যাচে তোমরা ৫-৩ গোলে জিতো। তুমি অনেক ভালো খেলেছিলে। আমি কি ভূল বললাম?” এক চিলতে মুচকি হাসি দিয়ে ফ্রিটজ জানান যে তিনি সঠিকই ছিলেন। পরের দিন গার্ডের সহায়তায় ক্যাম্প থেকে মুক্তি পান ওয়াল্টার।

যুদ্ধ শেষ হলে ওয়াল্টার নিজ বাড়ি ফিরে যান নিজের জীবন এবং ক্যারিয়ারকে পুনর্গঠন করার জন্য। আবারো যোগ দেন ডাই রোটেন টেউফেলে। এরপর ১৯৪৭ সালে এফসি কাইসের লেউটার্নে যোগ দিলে নিজেকে প্রমাণ করতে সম্পূর্নভাবে সফল হন তিনি। দলীয় ভাবেও তখন সফল ছিলেন ফ্রিটজ।

এরপর কিংবদন্তি ম্যানেজার এবং কাতেনুচ্চির গড ফাদার হেলেনিও হেরেরা অফার করে বসেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওয়াল্টারকে। হেরেরা তখন এটলেটিকো মাদ্রিদের ম্যানেজার। মোটা অঙ্কেরও অফার পান ফ্রিটজ কিন্তু তাঁর ইতালিয়ান স্ত্রী তাঁকে বোঝান যে অর্থই সবকিছু না। এরপর আরো নানা রকম লোভনীয় প্রস্তাব আসলেও মূলত স্ত্রীর জন্য সব অফারই ফিরিয়ে দেন তিনি। ১৯৫৩ সালে কাইসের লেউটার্ণের হয়ে জিতেন দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা। পরবর্তীতে ১৯৫৪ বিশ্বকাপের জন্য জার্মান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয় ফ্রিটজের কাঁধে।

১৯৫০ বিশ্বকাপের জন্য পশ্চিম জার্মানিকে নিষিদ্ধ করা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মূল হোতা হিসেবে। কিন্তু পরবর্তী বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডে ওয়াল্টারকে অধিনায়ক বানিয়ে দল পাঠায় জার্মানি। এই ১৯৫৪ বিশ্বকাপ ছিল প্রথম টেলিভিশনে দেখানো বিশ্বকাপ। ওয়াল্টার এর ভাইও জার্মান দলে সুযোগ পেয়ে যায়।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৪-১ গোলের দারুন জয় পায় ওয়াল্টার ব্রাদার্সের জার্মানি। প্রথম ম্যাচেই গোল পেয়ে যান ওয়াল্টারের ভাই ওতমার ওয়াল্টার। কিন্তু পরবর্তী ম্যাচে স্যান্ডর ককেসিসস এর ৪ গোলের সুবাদে ৮-৩ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারে জার্মানি। হাঙ্গেরী তাদের প্রথম ম্যাচেও ৯-০ তে উড়িয়ে দেয় দক্ষিণ কোরিয়াকে।এরপর তুর্কি ৭-০ গোলে দক্ষিন কোরিয়াকে হারালে প্লে অফে ম্যাচ গড়ায় তুর্কি বনাম জার্মানির। মারলকের হ্যাট্রিকে প্লে অফে তুর্কিকে ৭-২ গোলে বিধ্বস্ত করে জার্মানি। ওয়াল্টার ব্রাদার্স দুজনও গোল পান এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। কোয়ার্টার ফাইনালে চলে যায় জার্মানি। যুগোস্লাভিয়াকে ২-০ গোলে পরাজিত করে সেমিতে নিজেদের স্থান পাকাপোক্ত করে নিল ওয়াল্টার বাহিনী। বাসেলের জ্যাকোব স্টেডিয়াম অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামে হারবার্গারের শিষ্যরা। ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে চলে যায় জার্মানি। ওয়াল্টার ব্রাদার্স দুজনই দুটি করে গোল করেন। জার্মানিতে যেন তখনই উৎসবের মাতোয়ারা চলছে। হবেই বা না কেন? একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দল পুনর্গঠিত হয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চের মতো ফাইনালে চলে গেছে। বার্নের ওয়াঙ্কডর্ফ স্টেডিয়ামে শুরু হবে পুস্কাস-ককেসিসের হাঙ্গেরীর বিপক্ষে ওয়াল্টার ব্রাদার্সের জার্মানির বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি।

৪ জুলাই, ১৯৫৪। রোজ রবিবার। লেক থুনের ওপর দেখা যায় সূর্যের প্রচন্ড উজ্জ্বলতা আর তার চাকচিক্যে ছেয়ে যায় গোটা সুইজারল্যান্ড। আইসক্রীম বিক্রেতারাও খুব খুশি, ব্যবসায়ে একটা ব্যস্ত দিন পার করতে পারবে বলে। দুপুরের দিকে ধূসর মেঘে ছেয়ে যায় বার্নের আল্পস পর্বতমালা। এরকম আবহাওয়াই তো জার্মানরা চেয়েছিল। মহাকাব্য রচনার জন্য তারা এটাকে নাম দেয় “ফ্রিটজ ওয়াল্টার আবহাওয়া”।

আশাকে আর দীর্ঘায়িত না করে বাস্তবে রূপ দিতেই মাঠে নামে ওয়াল্টার, হারবার্গারের জার্মানি। ম্যাচ শুরু হতে না হতেই মাত্র ০৮ মিনিটে পুস্কাস ও জিবরের গোলে ২-০ তে লিড নেয় টুর্নামেন্টের ফেবারিট হাঙ্গেরী। জার্মানদের স্বপ্ন যেন এবার ম্রিয়মান হতে থাকে। ধূসর কালো মেঘে আবছা হয়ে যাবে তাদের লালিত এই আশা? ম্যাচের ১০ম মিনিটেই ডান দিক থেকে ওয়াল্টারের অসাধারণ সলো রানে বল পান হেলমুট রান। তার অসাধারণ শট গোলকিপার ব্লক করে দিলেও ব্যবধান কমাতে ভূল করেননি মারলক। ১১ বছর আগে ৩-১ এ পিছিয়ে থেকেও ৫-৩ এ জয় নিয়ে ফেরে জার্মানি। হয়তোবা ওয়াল্টারের মনে এটাই বার বার উঁকি দিচ্ছিলো। হারবার্গের সেই অমর উক্তি “জার্মানরা হারতে শিখেনি” হয়তো এটাই বারবার নীরবে আওড়াচ্ছিলেন ওয়াল্টার। ম্যাচের ১৮তম মিনিটেই কর্নার থেকে হেডে সমতাসূচক গোল করে ফেলেন হেলমুট রান। স্টেডিয়ামে বৃষ্টি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। পানিতে সয়লাব হয়ে যেতে থাকে ওয়াঙ্কডর্ফ। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে নেন্দোর হিদেগুটির নিশ্চিত গোল বারে লেগে ফিরে আসলে ফলাফল ২-২ নিয়েই বিরতিতে যায় দুদল। দ্বিতীয়ার্ধে হাঙ্গেরী চড়াও ভাবে খেলা শুরু করলেও জার্মান দেয়াল ভাঙতে ব্যর্থ হয় পুস্কাসের হাঙ্গেরী। ম্যাচের সময় ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগুচ্ছে। ৮৪ মিনিটে হ্যানস স্কাফের এর ক্রস ঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় হাঙ্গেরীয়ান ডিফেন্ডার। বল পেয়ে যায় আবারো সেই হেলমুট রান। তাঁর ডান পায়ের ফেইক শটে হাঙ্গেরীয়ান কিপার গায়ালা গ্রোসিককে পরাস্ত করে ৩-২ গোলের লিড নেয় জার্মানরা। এরপর আরো এ্যাটাকের ধার বাড়িয়ে দেয় হাঙ্গেরী। ফলশ্রুতিতে সমতাসূচক গোলটিও পেয়ে যেতে পারত কিন্তু ৮৯ মিনিটে পুস্কাসের করা গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এভাবেই রচিত হয় “মিরাকেল অব বার্ন”!

ওয়াল্টার উঁচিয়ে ধরলেন জুলে রিমে ট্রফি। ঠিক তখনও বৃষ্টি পড়ছে সারা স্টেডিয়ামে। হয়তোবা এই বৃষ্টিই নতুনভাবে বরণ করে নিতে এসেছে বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত হওয়া জার্মানিকে।

ওয়াল্টার দেশের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেন ১৯৫৮ সুইডেন বিশ্বকাপে। সেমিফাইনালে স্বাগতিকদের কাছে হেরে অবসরে চলে যান এই কিংবদন্তি। জার্মানির হয়ে ৬১ ম্যাচে করেন ৩৩ গোল। ক্যারিয়ারে করেন ৩৩৯ গোল ৪৪০ ম্যাচে।

১৯৮৫ সালে কাইসের লেউটার্ণ তাদের বেটজেনবার্গ স্টেডিয়ামের নতুন নামকরণ করেন ওয়াল্টারের নামে।২০০৬ বিশ্বকাপের ৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ফ্রিটজ ওয়াল্টার স্টেডিয়ামে। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে তা আর স্বচক্ষে দেখা হলো না ওয়াল্টারের। ২০০২ সালেই জার্মানির ফুটবলের এই নায়ক পৃথিবী ছেড়ে ওপারে পাড়ি দেন।

৫০ দশকে জার্মান ফ্যানদের কাছে ওয়াল্টারই ছিলেন আল্টিমেট খেলোয়াড়। একটি অপেশাদার খেলাকে জার্মানিতে পেশাদারের রূপ দিয়েছেন এই ফ্রিটজই। ক্রীড়াবিদ, দয়ালু, শান্ত, ভদ্র, অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্তের সমন্বয় ছিলেন তিনি। হিটলারের অত্যাচারিত শাসনের প্রভাবে দুই জার্মানি যেখানে চরম শত্রুভাবাপন্ন, ওয়াল্টারের নেতৃত্বে বার্নের মিরাকেলের পর সবাই যেন চলে আসে এক ভ্রাতৃত্বের ছায়াতলে। ওয়াল্টার এর গুণে মুগ্ধ হয়ে পড়ে পূর্ব জার্মানির হাজারো ফুটবল প্রেমীরা। বার্নের সেই স্মরণীয় দিনটার কথা স্মরণ করে এখনও বেশিরভাগ জার্মান নাগরিক অনুভব করেন দু জার্মানির মাঝে যে বিরোধ, একে অপরের প্রতি যে আক্রোশ তা ওই ‘ফ্রিটজ ওয়াল্টার আবহাওয়া’ তেই সব ধুয়ে মুছে যায়। সকল গ্লানি মুছে ফেলে নতুনভাবে সূর্যোদয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি। জার্মানি যেন নতুন উদ্যমে একত্রিত হয়ে ভালোবাসার ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়ানো শুরু করে। আর এই দুই জার্মানির ভ্রাতৃত্ববোধ সংগ্রামের মহানায়ক তো ফ্রেডরিক ফ্রিটজ ওয়াল্টারই।

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *