Sunday, 24 Jun 2018

একান্ত সাক্ষাৎকারঃ শফিকুল ইসলাম মানিক

দীর্ঘ বিশ বছরের ফুটবল কোচ হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশ ফুটবলে। কাজ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র, মোহামেডান, বাংলাদেশ জাতীয় দল, চট্টগ্রাম আবাহনী হয়ে এখন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে। বাংলাদেশের অন্যতম ট্যাক্টিক্যাল কোচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফুটবল ম্যানিয়াক্সের সাথে দীর্ঘ আলাপচারিতায় কথা বলেছেন দেশের ফুটবলের বর্তমান পরিস্থিতি, তা থেকে উত্তরনের পথ নিয়ে ভাবনা, কেমন কাটছে তার শেখ জামালে সময়, সাফল্য আর ব্যর্থতা নিয়ে, নিজের পছন্দের খেলোয়াড়, কোন দল সাপোর্ট করেন, কোচ হিসেবে কিভাবে দেখেন ইউরোপীয়ান ফুটবল, পছন্দের কোচ নিয়ে। সরাসরি আলাপচারিতায়

ম্যানিয়াক্সঃ কেমন আছেন, স্যার?

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ  ফাইন!

ম্যানিয়াক্সঃ কিছুদিন আগে বাফুফের যে নির্বাচন হলো, আপনাকে দেখা গেছে যে আপনি বাঁচাও ফুটবলের পক্ষে ছিলেন!

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ হ্যাঁ, আমি বাঁচাও ফুটবলের পক্ষেই ছিলাম। আমি যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে কোচিং করাই বাংলাদেশের ফুটবল এর অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে ভালো নেই।  যেভাবে এগোচ্ছিলো আমরা কখোনোই আন্তর্জাতিক ফুটবলের কাঙ্খিত মানে পৌছাতে পারবোনা। বাংলাদেশ ফুটবলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন প্রয়োজন। রেভুলিউশন দরকার, এটা ছাড়া সম্ভব না। স্বাভাবিকভাবে এগোলে আমরা সাফের গন্ডিও পার হতে পারবো না। সেজন্য আমি চিন্তা করেছি, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে যারা বিগত আট বছর ধরে কাজ করছে তাদের কাজ আমার মনঃপুত হয়নি।  যারা খেলছে , যারা তৈরী হচ্ছে তারাও আন্তর্জাতিক লেবেলে মানটা ধরার জন্য যথেষ্ট নয়।  সেজন্য আমি নতুন কাউকে সাপোর্ট করছিলাম, যারা বাংলাদেশ ফুটবলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে, রেজাল্ট নিয়ে আসবে। সাপোর্টার খুব বেশী নাই, অতি উৎসাহী কিছু আছে যারা ইউরোপীয়ান ফুটবলে মেতে থাকে, তাদের যদি মাঠে আনতে হয় তাহলে আমাদের রেজাল্ট প্রয়োজন। আমি তাদের বিরুদ্ধে ছিলাম তা নয়, আমি তাদের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ছিলাম। যে কাজগুলো করলে আমরা একটা লেবেলে যেতে পারতাম সেটা তারা করতে পারেনি। কিছু সাইন্স ইমপ্লিমেন্ট করলে হয়তো আমরা আন্তর্জাতিক লেবেলে ভালো করার জন্য যে ধরনের ফুটবলার প্রয়োজন তা তৈরী করতে পারতাম। আমাদের খেলোয়াড়দের লিমিটেশন আছে, শক্তিশালী ফিজিক্যাল দলের সাথে একটা সময় গিয়ে পেরে উঠিনা। এই গ্যাপটা পূরণ করার জন্য, কিছু কাজ দরকার। সেজন্য নতুন কাউকে চেয়েছিলাম। সত্যি সত্যি আমি বাঁচাও ফুটবলের আন্দোলনের সাথে ছিলাম। তার মানে এই না যে নতুন যে কমিটি এসেছে তাদের স্বাগত জানাচ্ছি না। আমি তাদের স্বাগত জানাই, সামনের চার বছর কাজ করবে, নতুন ভাবে, নতুন চিন্তা নিয়ে দায়িত্ব থেকে ফুটবলার তৈরী করে লোকাল ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে কিছু সাফল্য এনে দিবে, যাতে দর্শক মাঠে আসে।

ম্যানিয়াক্সঃ বর্তমানে বাংলাদেশ লীগকে ঢাকার বাইরে ছয়টা স্টেডিয়ামে নেয়ার যে পরিকল্পনা চলছে সেটাকে কিভাবে দেখেন?

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ আমি অনেক আগে থেকেই এমন কিছু চাচ্ছিলাম। আমি যখন মুক্তিযোদ্ধার কোচ ছিলাম, নিজের উদ্যোগে গোপালগঞ্জে ভ্যানু করার কথা হচ্ছিলো। ঢাকায় অনেকে ব্যাস্ত থাকে, ঢাকার বাইরে কিন্তু ফুটবলের দর্শক আছে। ঢাকার বাইরে মাঠ আছে, ভালো খেলা দেখতে পায়না সেখানে যদি ঢাকা থেকে গিয়ে ফুটবল খেলা হয় তাহলে জেলা ফুটবল এর দর্শক উৎসাহী হবে, জেলা ফুটবলে ফুটবলার  তৈরী হবে। যে কারণে আমি ফুটবল ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্ত স্বাগত জানাই, আসলে এ ব্যাপারে আরো আগেই কঠোর হবার দরকার ছিলো। হোম এন্ড এওয়ে সারা বিশ্বে এভাবে হয়। ক্লাবের ভ্যানু থাকতেই হয়, আমাদের একটাই স্টেডিয়াম, এটাই  হোম, এটাই এওয়ে। সুতরাং এটা জরুরী ছিলো। আরেকটা কারণ আছে, সামনে বিএসএল আসছে, সেজন্য আন্তর্জাতিক মানের মাঠ প্রয়োজন, তাদের অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন আছে। ভ্যানুগুলো কাজে দিবে।

ম্যানিয়াক্সঃ বি এস এল বাংলাদেশ ফুটবল উন্নয়নে অবদান রাখবে?

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ অবশ্যই রাখবে, আজকেই খবর পেলাম এটা আপাতত স্থগিত হয়েছে। এটা শর্ট টাইমের টুর্নামেন্ট। দর্শক, খেলোয়াড়কে আকর্ষণ করবে। যারা আয়োজক আছে তারাও দেখবে ফুটবলাররা কেমন। বিদেশী কোচ আসবে, লোকাল কোচরা থাকবে, সেখানে অনেক কিছু শেখার থাকবে। অবশ্যই এটা পজিটিভ। আমি ব্যাক্তিগতভাবে তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে চিনি, যিনি এটার উদ্যোগ নিয়েছেন, ব্যাক্তিগতভাবে পছন্দ করি। লোকটা ফুটবলের জন্য পাগল, ফুটবলের জন্য এমন পাগলের প্রয়োজন আছে। উনি যদি চেষ্টা করেন, পারবেন!

ম্যানিয়াক্সঃ শেখ জামালে এটা আপনার প্রথম সিজন, অনুভূতিটা কেমন?

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ খুব একটা ভালো নয়। কারণ, আমি যখন এসেছি তার আগ পর্যন্ত শেখ জামাল খুব টপ লেবেলের টিম ছিলো, বাংলাদেশ ফুটবলে পরিচিতি লাভ করেছিলো। হঠাৎ করে ছন্দপতন এসেছে, বাঁচাও ফুটবল আন্দোলনের কর্ণধার এবং এই ক্লাবের প্রেসিডেন্ট যিনি ছিলেন তিনি নির্বাচনে হেরে যাবার কারণে এবং বেশ কিছু খেলোয়াড়কে নিয়ে দড়ি টানাটানির কারণে দলটা ভালো শেপে নেই। একটা প্রফেশনাল দলের ছন্দটা কেটে গেলে সেটা ভালো না। আমি এমন একটা সময়ে এসেছি, যখন ভাঙ্গন আসছে, দুঃসময়। এই দুঃসময়ে আমি চেষ্টা করছি, যদিও ম্যানেজমেন্ট থেকে সর্বাত্বক সহযোগীতা পাচ্ছি না। কেন জানি তাদের অনিহা ফুটবলের প্রতি। ফুটবলকে আর দেয়ার কিছু মনে হয় নেই তাদের। আমি চেষ্টা করছি দলকে ভালো কিছু দেয়ার। যাতে বাংলাদেশ ফুটবলে তাদের যে অবদানটা সেটা ধরে রাখতে পারে। অভিজ্ঞতা আমার দুঃসময়ের। স্ট্রাগল করছি, অনেক সমস্যা আছে, সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছি। এই বছর যে খুব বেশী আশাবাদী তা নয়, তাও সম্ভব। ফুটবল তো একটা ইউনিটের খেলা। কর্মকর্তা, ফুটবলার, কোচিং স্টাফ সবাই মিলে যদি একটা ইউনিট হিসেবে দাঁড়িয়ে যায় তাহলে সম্ভব ভালো কিছু করা। সেটাই আমি চেষ্টা করছি, আমি খুব আশাবাদী। রেজাল্ট খারাপ নিয়ে হতাশ নই, তার কারণগুলো সবাই জানে, তাই নতুন করে কিছু বলার নেই। সবাই মিলে চেষ্টা করছি সেটা কাটিয়ে উঠার, খেলোয়াড়রাও চেষ্টা করছে।

ম্যানিয়াক্সঃ এবারের এ এফসি কাপে শেখ জামাল খুব একটা ভালো করেনি, শোনা যাচ্ছে আগামী এ এএফ সি কাপ শেখ জামাল প্রত্যাহার করতে পারে!

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ এ এফসি কাপ নিয়ে বড় আশা ছিলো শেখ জামালের । বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের অনেক  উৎসাহ ছিলো, যে খেলোয়াড়রা এতোদূর নিয়ে এলো তাদের ধরে রেখেই সামনে এগোতে চেয়েছিলেন। হঠাৎ করেই দলবদলে দলটি বিভিন্ন ভাবে ভেঙ্গে গিয়েছিলো, প্রিপারেশানটা ভালো ছিলো না। অনেকে বিভিন্ন দল থেকে এসে মানিয়ে নেয়ার সময় পায়নি। এভাবে ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্টে ভালো করা সম্ভব না। অথচ আমাদের মূল টিমটা থাকলে আমরা কোয়ালিফাই করতে পারতাম। এই ভাঙ্গনের সময় সব শেষ হয়ে গেছে। সে কারণেই হয়তো মাননীয় সভাপতি ভাবছেন এ এফসি কাপে কোন দল নিয়ে খেলবো, যে দল ভেঙ্গে গেছে , সেই ভাঙ্গা দল নিয়ে এএফসি কাপের মতো আসরে খেললে বাজে রেজাল্ট আসতে পারে। এইজন্য হয়তো খেলতে চাচ্ছেন না।

ম্যানিয়াক্সঃ আপনি চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ ছিলেন, ট্রফিজয়ী দলের। সেখানকার ম্যানেজারের সাথে ঝামেলার কারণে ছেড়ে এসেছেন!

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাইনা। চট্টগ্রাম আবাহনী একটা প্রতিষ্ঠান, আমি একজন ব্যাক্তির কারণে চলে এসেছি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের জন্য আমার শুভকামনা আছে। চট্টগ্রাম আবাহনী ভালো রেজাল্ট করছে, ইন্টারন্যাশনাল এবং ডমেস্টিক দুটো ট্রফি জিতেছে। দলটা আমার হাতেই গড়া, পরিকল্পনাগুলো করেছি। প্রেসিডেন্টও জানেন ম্যানেজারের সাথে দূরত্বের কথা। যেহেতু দূরত্ব হয়েছে আমি চলে এসেছি। অনেকে বলছিলেন, একটা সফল দল, বড় দল থাকলে ভালো হতো। আমি বিশ্বাস করি, আমার কর্ম যেখানে, রুজি যেখানে আমি সেখানেই আছি। এটা আমার ভাগ্য, ভাগ্যকে মেনে নিয়েই শেখ জামালের পক্ষে কাজ করছি।

ম্যানিয়াক্সঃ চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে যখন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জিতলেন, তখন প্রত্যাশাটা কি জেতার ছিলো?

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ নাহ, এতোটা প্রত্যাশা ছিলো না। তবে শেখ রাসেলের খেলোয়াড়দের যখন পেলাম, তখন কিছুটা আশাবাদী হলাম। এই খেলোয়াড়দের আমি চিনি, ভালো খেলোয়াড়। জাহিদ, এমিলি। বিদেশী রিক্রুটগুলোও আমার হাতে ছিলো। তাদেরকে স্টেপ বাই স্টেপ নিয়ে গেছি। প্রথম ম্যাচ ইষ্ট বেঙ্গলের কাছে হেরে যাবার পর আমি ঘুড়ে দাড়াই আবাহনীকে হারিয়ে। তারপর কনফিডেন্স বেড়ে যায়। সবাই মিলে একটা ইউনিট হয়ে যায় যখন খারাপ হলেও মাঠে সেটা খারাপ হলেও উতরে যায়। আমি এবং প্রেসিডেন্ট তরফদার রুহুল আমিন উনি অনেক শ্রম দিয়েছেন। মোটিভেশনের জন্য উনি কাজ করছেন। খেলোয়াড়দের জন্য মূল চাবিকাঠি ছিলো, আমার মনে হয়েছে – যেহেতু অনেকে অন্য দলের ছিলো, কেউ যদি আঘাত পায়, আঘাত পাওয়া খেলোয়াড়কে একই কন্ট্রাক্টে আগামী বছর চট্টগ্রাম আবাহনীতে নিয়ে নেয়া হবে। ফুটবলররা তাই নিজের পায়ের কথা না ভেবে টিমের জন্য খেলেছে, একটা পর্যায়ে টিম না, দেশের জন্য খেলেছে সবাই। এভাবেই পুরো একটা ইউনিট কাজ করার কারনেই সেটা সম্ভব হয়েছে।

ম্যানিয়াক্সঃ আপনি দীর্ঘদিন ধরে কোচিং করাচ্ছেন, সেরা সাফল্য কোনটা?

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ অনেক, আমি তো প্রায় বিশ বছর ধরে কোচিং করাচ্ছি, মুক্তিযোদ্ধাতে ১২ বছর, মোহামেডানে সম্ভবত ৪ বছর, জাতীয় দলে ছিলাম, চট্টগ্রাম আবাহনীতে এক বছর, এখন শেখ জামালে। সাফল্য আছে, ব্যর্থতাও আছে। সাফল্য বললে, প্রথম বছরেই আমি মুক্তিযোদ্ধাকে চ্যাম্পিয়ন করলাম। তৃতীয় শক্তি বলা হলো, তখন আবাহনী, মোহামেডানের বাইরে কেউ লীগ জিততো না, আমার সময়ে মুক্তিযোদ্ধা লীগ জিতলো, সেটা আমার এবং মুক্তিযোদ্ধার জন্য বড় প্রাপ্তি ছিলো। সব ধরনের ট্রফি আছে, বিশটার মতো ট্রফি জিতেছি। একটা বছর বাদে, প্রতি বছর ট্রফি আছে। সে বছর খুব বাজে দল হয়েছিলো, রেলিগেশনের মতো, তাও কাপগুলোতে সেমি ফাইনাল খেলেছি। এই বছর দেখা যাক, শেখ জামালকে ট্রফি দিতে পারি কিনা।

ম্যানিয়াক্সঃ সামনে ফেডারেশন কাপ এবং পেশাদার লীগ আসছে, এই নিয়ে শেখ জামালের পরিকল্পনা কি?

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ ফেডারেশন কাপে শেখ জামাল ডিপেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। গতবারের বারো জন লোকাল প্লেয়ার নেই, এমেকা হাতে নেই, পায়ে অপারেশন হয়েছে, বিদেশী ফুটবলারের কোটাও কম আমার হাতে। যারা রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে এসেছে তারাও তৈরী হচ্ছে কেবল, আস্থা রেখে খেলার মতো পর্যায়ে যায়নি। তারপরেও চট্টগ্রাম আবাহনী যেভাবে খেলেছে অনেক প্লেয়ার নেই তাও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, ঐ যে একটা ইউনিট হয়ে গেলে অনেক কিছু উতরানো সম্ভব। ফুটবল তো ইউনিটের খেলা। আমরা চ্যাম্পিয়ন হবার জন্য খেলবো, লীগে শেখ জামালের জন্য হাতছানি আছে হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হবার ব্যাপারে। ম্যানেজমেন্ট থেকে যদি সাপোর্ট পাই, আর্থিক, মোরাল সাপোর্ট, এই সাপোর্টগুলো খুব জরুরী। আমি আশাবাদী। বাদবাকী উপরওয়ালার হাতে আর ম্যানেজমেন্ট কতটুকু সাহায্য করে সেটার উপর নির্ভর করে। শেখ কামাল গোল্ডকাপও হবে, সেখানেও শেখ জামাল খেলতে পারে। সেটাও জেতার জন্য খেলবো। আমি বিশ্বাস করি, ট্রফি ছাড়া থাকবো না এই বছর।

ম্যানিয়াক্সঃ ফুটবলে আপনার প্রিয় দল, বাংলাদেশে?

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ আমি যখন ছোট ছিলাম, যখন মারামারি করা দর্শক ছিলাম। আমার এলাকার টিম ছিলো আবাহনী। যদিও আমার সব কিছু মোহামেডানে, আমি মোহামেডানের পার্মানেন্ট মেম্বার, খেলেছি, কোচিং করিয়েছি। কিন্তু আমার ছোটবেলার দল ছিলো আবাহনী। সালাউদ্দিন এবং টুটুল ভাই আমার পছন্দের খেলোয়াড়, সব সময় বলি।

ম্যানিয়াক্সঃ দেশের বাইরে কাকে সাপোর্ট করবেন, ইউরোপে?

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ সাপোর্ট আসলে করি না, তবে ফলো করি। সুন্দর ফুটবল পছন্দ করি।  ভালো খেলা মিস করি না, বার্সেলোনার খেলা মিস করি না। রিয়াল মাদ্রিদের খেলা, বায়ার্ণ মিউনিখের খেলাও মিস করি না। আগে ইংলিশ লীগের খেলা ভালো লাগতো না। সেই লং বল, ফিজিক্যাল ফুটবল! এখন চেঞ্জ হচ্ছে, ইংলিশ লীগের খেলাতেও এখন ট্যাক্টিক্স আছে। স্পেনিশ, ল্যাটিন কোচরা আসছে ইংলিশ ফুটবলে, ভালো হচ্ছে। কৌশল চেঞ্জ হচ্ছে। বায়ার্ণ মিউনিখের খেলা আগের চেয়ে দেখতে গত দুই বছর দেখতে ভালো লাগে। সাপোর্ট একটা টিম করি না। কোচ হিসেবে খেলা দেখিতো, কোচ ও চেঞ্জ হচ্ছে দলগুলোতে।

ম্যানিয়াক্সঃ তাও, যদি একটা টিম যদি বেছে নেন!

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ (হাসি), আমি আসলে ল্যাটিন ফুটবলের ভক্ত। ব্রাজিল ফুটবলের বিশেষ করে, আমি ব্রাজিলের ফ্যান। ব্রাজিলে গিয়েছিও, সেখানে দেড়মাস ছিলাম, ডিপ্লোমা করেছি। ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের ফ্যান। আর ক্লাবে বার্সেলোনায় তিন ল্যাটিন ফরোয়ার্ড যেহেতু আছে, ওদের খেলা অনেক মনোযোগ দিয়ে দেখি। খুব আকর্ষনীয় ফুটবল খেলে। ঐদিক থেকে একটা সফট কর্ণার তো আছেই। খুব কট্টর যে তা নয়। বার্সেলোনা গত চার পাচ বছর ধরে পছন্দসই খেলা খেলছে।

ম্যানিয়াক্সঃ কোপা আর ইউরো আসছে, কি মনে হয় আপনার?

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ কোপায় ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনাই দিনশেষে ফেভারিট। আর ইউরোতে হল্যান্ড নেই এবার। জার্মানী ফেভারিট সব সময়, ফ্রান্সে বেশ কিছু তরুণ খেলোয়াড় আছে ওদের ও সম্ভাবনা আছে। স্পেনে নতুন প্রজন্ম ভালো খেলছে, অভিজ্ঞরাও আছে, স্পেন টপ ফেভারিট আমার মতে।

ম্যানিয়াক্সঃ আপনার প্রিয় ফরমেশন?

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ আমি আসলে প্লেয়ার দিয়ে বিবেচনা করি, কোন কোয়ালিটির প্লেয়ার আছে আমার হাতে সেভাবে। ফরমেশন আমি সাজালাম, কিন্তু মাঠে সেটা আবার অন্য রূপ নেয়। মেসি কিন্তু উপরে দাড়িয়ে থাকে না, ইদানিং মাঝে মাঝেই বল নিতে একেবারে ডিফেন্স পর্যন্ত নেমে আসে। নেইমারও বাম পাশে একেবারে নিচে নেমে আসে অনেক সময়। এই ব্যাপারগুলো আসলে দাড় করানো, অপোনেন্টকে রিড করে দাড় করানো। তারপরেও পছন্দের ফরমেশন বললে, আমার হাতে বেষ্ট প্লেয়ার থাকলে ৩-৪-৩ একটা ফরমেশন আছে যেটাকে আবার একটু ভাগ করলে ৩-৪-২-১ হয়ে যায়। আমার পছন্দের ফরমেশন। দুটা সাইড মিডফিল্ড-উইংব্যাক পর্যন্ত আসতে পারে। মাঝ মাঠটা দখলে থাকে, ডিফেন্সেও তিনজন সব সময় থাকতে পারে।

ম্যানিয়াক্সঃ আপনার পছন্দের কোচ?

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ পেপ গার্দিওলা, অসাধারণ ট্যাক্টিক্যাল একজন কোচ। হি ইজ এমেইজিং, বুদ্ধিমান। সাত আট বছর ধরে জিতছে, যদিও ভালো টিম পেয়েছে। বার্সায় কিন্তু তার গড়তে হয়েছে, কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বায়ার্ণে তৈরী টিম পেয়েছে হয়তো। তাও এই লেবেলে স্টার প্লেয়ারদের কন্ট্রোল করা, রেজাল্ট করা।  ক্রমাগত জিতে যাওয়া মুখের কথা নয়। মরিনহো অন্য দিক থেকে বেশ ভালো। তুলনামূলক ছোট টিম নিয়ে ক্লপ বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডে বেশ ভালো কাজ করেছেন, ডিয়েগো সিমিওনে এটলেটিকো মাদ্রিদে বেশ ভালো কোচ। তবে পেপ গার্দিওলা স্পেশাল, কোচের দৃষ্টিতে খেলা দেখে বলছি। জিদান সবে এলো, মাঝখানে টিম পেয়েছে, সম্ভাবনা আছে। একটা কোচকে এক বছরে রিড করা যাবে না,  অন্তত চার পাচ বছর পরে বিচার করা উচিৎ। স্যার এলেক্স ফার্গুসন ম্যানচেষ্টারকে কোথায় নিয়ে গেছেন। আর্সেন ওয়েঙ্গার যে মানের টিম দেয়া হচ্ছে সেই অনুযায়ী রেজাল্ট দিচ্ছেন। ক্লাব এর লক্ষ্য অর্জন হচ্ছে বলেই কিন্তু এতোদিন ধরে থেকে গেছেন।

ম্যানিয়াক্সঃ আপনার চোখে মেসি সেরা না রোনালদো, একজনকে বলতে বললে?

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ অবশ্যই মেসি।

ম্যানিয়াক্সঃ ফুটবল ম্যানিয়াক্সের গ্রুপ মেম্বার, সাইটের পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু যদি বলেন…

শফিকুল ইসলাম মানিকঃ অবশ্যই, সবাই ফুটবলকে পছন্দ করে। আরো আগ্রহের সাথে দেশের ফুটবলের সাথে যুক্ত হবে। শুধু ফেসবুকে নয়, মাঠে গিয়ে ফুটবলকে উৎসাহিত করতে হবে। ফুটবলের জন্য যে ভালোবাসা, সেই ভালোবাসাটা শুধু কাগজে কলমে না, ইন্টারনেটে না, দর্শক হিসেবে মাঠে এসে দেখাতে হবে। ধন্যবাদ সবাইকে, সবার জন্য, ফুটবল ম্যানিয়াক্সের জন্য শুভকামনা রইলো।

সাক্ষাৎকার গ্রহনেঃ ফারদিন হাসান, অভি

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *