Sunday, 24 Jun 2018

ডার্কহর্স নয় রাশিয়ায় ফেভারিট তকমা চায় বেলজিয়াম

ছোট্ট ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। তবে দেশটি উন্নত বিশ্বের কাতারেই পরে। দুইটি বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি অংশ না নিলেও যুদ্ধের অনেকাংশই সংঘটিত হয়েছিল এখানে। এছাড়া মহাদেশ ইউরোপের অন্যান্য কিছু যুদ্ধেরও প্রত্যক্ষদর্শী অঞ্চলটি। এই কারণে দেশটিকে আবার ‘Battlefield of Europe’ ও বলা হয়। ইউরোপের এই যুদ্ধক্ষেত্রটি এইবছর নামতে যাচ্ছে অন্যরকম এই যুদ্ধে। সেই যুদ্ধে অস্ত্র তীর-ধনুক, তলোয়ার কিংবা কিংবা বন্দুক নয়, এই যুদ্ধের অস্ত্র ফুটবল।তারা নামছে এই বছরের বিশ্বকাপ ফুটবলের যুদ্ধে।

আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে দলটির অবস্থান তেমন সুবিধাজনক নয়। ২০১৮ সাল বাদ দিয়ে De Rode Duivels বা The Red Devils নামক দলটি এই পর্যন্ত মোট ১২ বার বিশ্বকাপ খেলেছে। এর মধ্যে তাদের বলার মত অর্জন ১৯৮৬ সালে চতুর্থ আর গত ২০১৪ তে কোয়ার্টার ফাইনাল।
UEFA কনফেডারেশন আর Royal Belgian Football Association এর অধীনে থাকা দলটি তাদের ১৩ তম বিশ্বকাপ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে এডেন হ্যাজার্ডের নেতৃত্বে।হেডকোচ রবার্তো মার্টিনেজ। এইবারের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ একটি সুন্দর দল গড়েছেন।দলে ডাক পাওয়া ২৩ জন হচ্ছেন-
গোলরক্ষক- থিবু কোর্তোয়া (চেলসি), সাইমন মিগনোলেট (লিভারপুল), কোয়েন কাস্টিলস (ভল্ভসবার্গ)
ডিফেন্ডার- টবি অ্যাল্ডারউইল্ড (টটেনহ্যাম), থমাস ভার্মালিন (বার্সেলোনা), ভিনসেন্ট কোম্পানি (ম্যান সিটি), ইয়ান ভারটনগেন(টটেনহ্যাম), থমাস মিউনিয়ের (পিএসজি), ডেডড়িক বোয়াটা (সেল্টিক)
মিডফিল্ডার- এক্সেল উইটসেল (তিয়ানজিন কুয়ানজিয়ান), কেভিন ডি ব্রুইন (ম্যান সিটি), মারুয়ান ফেলাইনি (ম্যান ইউনাইটেড),  ইয়ানিক কারাস্কো (দাইলান উইফাং), ইউরি টিলেমান্স (মোনাকো), আদনান ইয়ানুজাই (রিয়াল সোসিয়েদাদ), মুসা ডেম্বেলে (টটেনহ্যাম),  নাসের চাডলি (ওয়েস্ট ব্রম এলবিওন), লিয়েন্ডার ডেনডংকার (আন্ডারলেখট)
ফরোয়ার্ড- রোমেলো লুকাকু (ম্যান ইউনাইটেড), এডেন হাজার্ড (চেলসি), ড্রিস মেরটেনস (নাপোলি), থরগান হাজার্ড (বুরুশিয়া মুনশেনগ্ল্যাডবাখ), মিচি বাতসুয়ারি (বুরুশিয়া ডর্টমুন্ড)

সম্ভাব্য ফরমেশন ও লাইন আপঃ


৩-৪-২-১

কোর্তোয়া
অ্যাল্ডারউইল্ড ভার্মালিন ভারটনগেন
মিউনিয়ের ডি ব্রুইন উইটসেল কারাস্কো
মেরটেনস হাজার্ড
লুকাকু

এই বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের গ্রুপের অন্য তিন দল পানামা, তিউনিশিয়া ও ইংল্যান্ড। শক্তিমত্তা বিবেচনায় বেলজিয়ামের খুব সহজেই গ্রুপ পর্ব পার হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠার কথা। তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন কে হবে এই নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার কথা ইংল্যান্ডের সাথে। তাদের লক্ষ্য থাকবে অবশ্যই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। এইজন্য তারা প্রস্তুত তাদের সেরাটা দিতেই।

গোলপোস্টের দায়িত্ব নিশ্চিতভাবেই পাচ্ছেন ব্লু লন্ডনের হয়ে খেলা থিবু কোর্তোয়া। ফ্যানরাও চাইবেন না বাকি দুজনের কেউ থাকুক। স্কোয়াড দেখে এটা একদম অনুমিতই যে তারা থ্রি ম্যান ডিফেন্স খেলাবে। দলে নেই কোন পিউর লেফট ব্যাক। ৩ জনের মধ্যে যে অ্যাল্ডারউইল্ড ও ভারটনগেন থাকবেন তা কনফার্ম। সমস্যা হল আরেকজন কে হবেন? কোম্পানী না ভার্মালিন?

আপাতভাবে দুজনেই খুবই ইঞ্জুরিপ্রবণ। তবে বর্তমান বিবেচনায় ভার্মালিনের থাকার সম্ভাবনাই বেশি । মোটামুটি দারুণ একটি মৌসুম তিনি কাটিয়েছেন বার্সায়, লীগের প্রথম এল ক্লাসিকোতে পারফর্মেন্স ছিল দেখার মত। ভেটেরান কোম্পানীকে নিয়ে রিস্ক নিতে না চাওয়াই স্বাভাবিক। তবে কোম্পানী দলে অনেকদিনেরই আশার প্রতীক।এই দিক দিয়ে হিসেব করলেও পাল্লাটা ৬০-৪০ হয়ে হেলে থাকে ভার্মালিনের দিকেই। দুই উইংব্যাকে আমরা দেখতে পারি লেফট মিডফিল্ডার কারাস্কো আর রাইট ব্যাক থমাস মিউনিয়েরকে।

সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রোলে থাকবেন এক্সেল উইটসেট। তার উপর ভরসা রেখেই কোচ রবার্তো মার্টিনেজ বাদ দিয়েছেন ক্লাবে দারুণ সময় কাটানো ইনফর্ম রাজা নাইঙ্গোলানকে। এই অভিমানে দল ঘোষণার পরের দিনই জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন রোমার এই মিডফিল্ডার। এখন উইটসেল যদি আশার প্রতিদান দিতে না পারে তবে তার থেকে বেশি জবাবদিহি করতে হবে কোচকেই। তবে ব্যাকআপ হিসেবে আছেন ফেলাইনি ও ডেম্বেলে। সিএম রোলেই তাদের আমরা দেখতে পেতে পারি।

কোচের ভরসা হয়ে এটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে আছেন কেভিন ডি ব্রুইন। পাসিং, শ্যুটিং সব দিক দিয়েই দক্ষ ম্যান সিটির এই প্লেমেকার। তার সামনে থাকবেন অধিনায়ক হাজার্ড, মেরটেনস ও লুকাকু এখানে প্রথম দুজনের প্রধান কাজ হবে সামনে থাকা লুকাকুকে বল সাপ্লাই দেয়া, আর লুকাকুর কাজ শুধু তা গোলে পরিণীত করা। তবে বেলজিয়ামের এই চারজনই যথেষ্ট দক্ষ গোল স্কোরিংয়ে তাই তাদের যে শুধু লুকাকুর দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে এমনটিও নয়। আর লুকাকুর বদলি হিসেবে থাকবেন বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মিচি বাতসুয়ারি। চেলসি থেকে গত জানুয়ারিতে দল পাল্টানো এই স্ট্রাইকার ভাল ফর্মেই আছেন ডর্টমুন্ডে। এটাকের অবস্থা বিবেচনায় আমরা এই বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছ থেকে অনেক গোল হওয়া দেখতে পারি। তবে তাদের গোল খাওয়ার সম্ভাবনাও রয়ে গেছে প্রায় সমানুপাতিক হারে।

দল নিয়ে কোচের মত যে দলে তিনি একটি বিবর্তন এনেছিলেন। এই দলে ডি ব্রুইন এমন একজন জিনি তার সামনে যদি তার দলের ৫ জন প্লেয়ারও থাকে, তবে তিনি সবাইকেই বল পাস দিতে সমান পারদর্শী। তাদের যে কোন একজন বল পাবেই। রাজা নাইঙ্গোলানের বাদ পরার প্রসঙ্গে বলেন যে নাইঙ্গোলান বেঞ্চে বসে থাকার মত প্লেয়ার না। তাকে দলে নেয়া মানে তাকে খেলাতেই হবে। এইটাই তার লেভেলের মধ্যে পরে। কিন্তু তিনি যে পজিশনে খেলেন দলে সেই পজিশনে খেলার জন্য আরো প্লেয়ার আছেন, যারা তাদের সেরাটা দিতে পারলে দলে নাইঙ্গোলানের অভাব বুঝা যাবে না। তাই কোচ নাইঙ্গোলানকে দলের বাইরে রেখেছেন এবং দল ঘোষণার আগের দিন না কি তিনি তার সাথে কথা বলে বাদ পরার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছিলেন।

তবে আশা করা যায় , একজনের জন্য বাকিরা আটকিয়ে থাকবে না। তাদের সামনে আছে একটি অপার সম্ভাবনা। তারা চাইবেই নিজেদেরকেই ছাড়িয়ে যেতে। দলটির হাতে বিশ্বকাপ শিরোপা দেখতে পেলে মন্দ হয় না।

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *