Saturday, 21 Apr 2018

“এল কেপ্টিনো” পাওলো মালদিনি- ফুটবলের একজন সত্যিকারের কিংবদন্তি

paolo-Maldini

‘Like father like son” কিংবা ” বাপ কা বেটা, সিপাহিকা ঘোড়া” অথবা ” বাপের বেডা” পৃথিবীর প্রতিটি ভাষাতেই এই ধরনের প্রবাদ আছে। কিন্তু সবাই কি তার বাবার মত বিখ্যাত হতে পারে? যদি তাই হত, তাহলে রবীন্দ্রনাথ এর পর তার ছেলেই হতেন সবচেয়ে বড় কবি। কিংবা আইনস্টাইন এর ছেলে হত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানী। সবার ক্ষেত্রে প্রবাদটা সত্যি না হলেও কিছু কিছু সন্তান তাঁর বাবার মতোই হন না। বাবাকেও ছাড়িয়ে যান। তেমনি একজন কিংবদন্তির গল্প বলি আজ।

ফুটবল খেলাটা তার রক্তেই ছিল। পারিবারিক নাম, ঐতিহ্যের সাথে সাথে ফুটবল খেলাটাও উত্তরাধিকার সুত্রে জন্মের সময় নিজের সাথে করেই নিয়ে এসেছিলেন তিনি। ইতালির মিলান শহরে ইতালি এবং এসি মিলান এর বিখ্যাত খেলোয়াড় সিজার মালদিনির ঘর আলো করে ১৯৬৮ সালের ২৬ শে জুন জন্ম নিল ছোট্ট এক দেব শিশু। বাবা মা নাম রাখলেন পাওলো সিজার মালদিনি। তখনো কি তারা কল্পনা করতে পেরেছিলেন এই শিশুই একদিন হয়ে উঠবেন ফুটবলের কিংবদন্তি। ” কিংবদন্তি ” বিশেষণটাও সম্ভবত যথেষ্ট নয় পাওলো মালদিনির বিশেষত্বকে বিশেষায়িত করতে। দীর্ঘ ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা বর্ণনা করার জন্য শব্দ ভাণ্ডারে নতুন করে কিছু শব্দ হয়ত যোগ করতে হতে পারে।

মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এসি মিলান ক্লাব এর ইয়ুথ একাডেমীতে যোগ দেন পাওলো মালদিনি। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ইয়ুথ একাডেমীর হয়ে খেলেন তিনি। ইয়ুথ একাডেমীতেই নিজের প্রতিভা দেখাতে সক্ষম হন পাওলো মালদিনি। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে প্রথম বারের মত কোপা ইতালিয়া প্রিমাভিরা ( বয়সভিত্তিক ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ ) জয়ী করেন এসি মিলানকে। এসি মিলান সিনিয়র টিমে ডাক পেতে খুব একটা সময় লাগেনি ইয়ুথ টিমে আলো ছড়ানো পাওলো মালদিনির। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে এসি মিলান সিনিয়র টিমের দরজা খুলে যায় তার জন্য। ২০ শে জানুয়ারি ১৯৮৫ উদিনেসের বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসাবে মাঠে নামেন তিনি। মাত্র ১৬ বছর ২০৮ দিন বয়সে সিরি এ তে অভিষেক হয় পাওলো মালদিনির। এই মৌসুমে অবশ্য ঐ একটি ম্যাচেই মাঠে নামেন তিনি। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন সিজার মালদিনির ছেলে হবার কারণে মুল দলে জায়গা পেয়েছিলেন পাওলো মালদিনি। কিন্তু নিজের যোগ্যতা দিয়েই ফ্রাঙ্কো বেরেসি, আলেক্সান্দ্রো কস্ট্রাকুরতা, আলবার্তিসিনির মত ডিফেন্ডারদের সাথে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। মাত্র ১৬ বছর বয়সের তরুনের জন্য সিরি এর মত বড় লীগের স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে খেলাটা অতটা সহজ ছিল না। কিন্তু তিনি যে পাওলো মালদিনি, হারিয়ে যাবার জন্য তো তিনি আসেন নি। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম থেকেই দলের প্রথম একাদশের নিয়মিত খেলোয়াড় পরিণত হন তিনি। ১৯৮৬ সালে ইতালিয়ান অনূর্ধ্ব ২১ দলে ডাক পান মালদিনি। অনূর্ধ্ব ২১ দলের হয়ে দু বছরে ১২ টি ম্যাচ খেলে ৫ টি গোল করেন। ১৯৮৬ সালের উইফা ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব ২১ চ্যাম্পিয়নশিপ এ রানার আপ হয় তার দল। ১৯৮৮ সালের অলিম্পিক এ অংশ নিয়ে দলকে চতুর্থ পজিশনে আনতে সক্ষম হন।

খেলোয়াড়ি জীবনের শুরুর সময়ে রাইট ব্যাক হিসাবে খেলা শুরু করেছিলেন মালদিনি। ১৯৮৭ সালে অ্যারিগো সাচ্চি এসি মিলানের কোচ হয়ে আসলে মালদিনিকে রাইট ব্যাক থেকে লেফট ব্যাক পজিশনে নিয়ে আসেন। ডান এবং বাম পা দু পায়েই সমান পারদর্শী ছিলেন বলে খুব সহজেই নিজেকে লেফট ব্যাক পজিশনে মানিয়ে নিয়েছিলেন। এরপর বাকিটা তো রূপকথার গল্পের মত। লেফট ব্যাক পজিশনে নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে চোখ বন্ধ করেই লেফট ব্যাক পজিশনের জন্য মালদিনিকে নিয়োগ দিতে কেউ দ্বিধা বোধ করবে না। লেফট ব্যাক, মিডফিল্ড, লেফট উইং সবখানেই ছিল তার অবাধ বিচরন। দলের হয়ে ২৯ টি গোল করেন মালদিনি। ৪ ই জানুয়ারি ১৯৮৭ কোমো এর বিপক্ষে দলের হয়ে প্রথম গোল করেন মালদিনি। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে দলের হয়ে প্রথম সিরি এ শিরোপা জয়ের স্বাদ পান মালদিনি। ১৯৭৮-৭৯ এরপর গত ৯ বছরে এটাই ছিল মিলানের প্রথম স্কুডেট্টো। এসি মিলান এবং বয়স ভিত্তিক টুর্নামেন্টে ভালো পারফর্মেন্স এর ফলস্বরূপ ইতালির জাতীয় দলের দরজাও খুব দ্রুতই খুলে যায় মালদিনির জন্য। ৩১ শে মার্চ ১৯৮৮ মাত্র ১৯ বছর বয়সে যুগোস্লাভিয়া এর বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় মালদিনির। ১৯৮৮ সালে শুরু করে ২০০২ সাল পর্যন্ত আজ্জুরিদের হয়ে মাঠে নেমেছেন ১২৬ টি ম্যাচে।

ক্লাব ফুটবলে মালদিনিঃ

ক্লাব ফুটবলে সম্ভাব্য যা কিছু অর্জন করা তার সবকিছুই পেয়েছেন মালদিনি এসি মিলান এর হয়ে। এসি মিলানের হয়ে স্কুডেট্টা ( সিরি এ ) জিতেছেন ৭ বার। পাশাপাশি সিরি এ তে ৩ বার রানার আপ। কোপা ইতালিয়া ১ বার চ্যাম্পিয়ন এবং ২ বার রানার আপ। সুপারকোপা ইতালিয়ানাতে ৫ বার চ্যাম্পিয়ন এবং ৩ বার রানার আপ। উইফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এ ৫ বার চ্যাম্পিয়ন এবং ৩ বার রানার আপ। উইফা সুপার কাপ ৫ বার চ্যাম্পিয়ন এবং ১ বার রানার আপ। ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে ২ বার চ্যাম্পিয়ন এবং ৩ বার রানার আপ। ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ ১ বার চ্যাম্পিয়ন। এসি মিলান এর হয়ে ২৪ বছরের ক্যারিয়ারে দলের উত্থান পতন অনেক দেখেছেন। কিন্তু দলের রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী হিসাবে তিনি ছিলেন উজ্জ্বল। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে এসি মিলানের স্কুডেট্টা জয়ে মালদিনি, বেরেসিদের নিয়ে গড়া মিলানের রক্ষণভাগের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। সেই সিজানে মাত্র ১৪ টি গোল হজম করে এসি মিলান। এই সাফল্যের পরবর্তী দুই সিজান সিরি এ তে অবশ্য খুব একটা ভালো কাটেনি রোজ্জোনেরিদের। সিরি এ তে শিরোপা শুন্য থাকলেও চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ছিল অপ্রতিরোধ্য মালদিনির দল। ১৯৮৮-৮৯ ও ১৯৮৯-৯০ টানা দু মৌসুমেই চ্যাম্পিয়ন্স লীগে বিজয়ী এসি মিলান। ৯০ দশকের শুরুতেই কেটেছে মালদিনির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল সময়। ১৯৯১- ৯২, ১৯৯২-৯৩,১৯৯৩-৯৪ টানা তিন মৌসুমে সিরি এ জয়। ১৯৯২-৯৩, ১৯৯৩-৯৪, ১৯৯৪-৯৫ টানা তিন মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে মিলান। যার মধ্যে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ বিজয়ী রোজ্জোনেরিরা। ক্লাব ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ সময় দেখেছেন ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে, সে মৌসুমে রোজ্জোনেরিরা ১১ নং স্থানে থেকে লীগ শেষ করেন। পরবর্তী মৌসুমও কাটে যাচ্ছেতাই ভাবে। ৯৭-৯৮ মৌসুমে দলের নিয়মিত অধিনায়ক বারোসি অবসর নিলে এই মৌসুমেই অধিনায়কের দায়িত্বে আসেন মালদিনি। অধিনায়ক হবার পর দলের সাফল্য আসতেও খুব বেশি দেরি লাগে নি। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমেই আবার সিরি এ চ্যাম্পিয়ন এসি মিলান। ২০০২-০৩ মৌসুমে নিজের অধিনায়কত্বে জিতে নেন চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা। ক্লাব ফুটবলের একটি ম্যাচ ভুলে যেতে পারলে হয়ত সবচেয়ে খুশি হতেন তিনি। ২০০৪-০৫ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল। খেলা শুরু হবার ৫১ সেকেন্ডেই মালদিনি গোল করেন। হাফ টাইমের আগেই ৩-০ তে এগিয়ে এসি মিলান। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে লিভারপুল ৩ গোল করে ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত এসি মিলান লিভারপুলের কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায়। লিভারপুলের বিপক্ষে ইস্তানবুলের এই ফাইনালের পরাজয়কে মালদিনি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে মুহুর্ত বলে অভিহিত করেছেন। তিন মাস রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারতেন না তিনি এই পরাজয়ের পর। ২০০৮-০৯ মৌসুম শেষে ক্লাবের সঙ্গে দুই যুগ পার করে দেয়ার পর অবসরে যান এই কিংবদন্তি। এসি মিলানের হয়ে কিছু রেকর্ড রয়ে যায় তার দখলে। ক্লাবের হয়ে সব ধরণের প্রতিযোগিতায় ৯০২ টি ম্যাচ খেলেন। সিরি এ তে একক ভাবে ৬৪৭ ম্যাচ। উইফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে দ্রুত সময়ে গোল ( ৫১ সেকেন্ড )। সবচেয়ে বেশি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল খেলার রেকর্ড ( রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ফ্রান্সিসকো জেন্টোর সাথে যৌথ ভাবে)। তাঁর অবসরের সাথে সাথে তাঁর ব্যবহৃত জার্সি নাম্বার ৩ কেও অবসর দেয় এসি মিলান। তবে মালদিনির দুই ছেলের কেউ যদি ভবিষ্যতে এসি মিলানের হয়ে খেলেন এবং তাদের কেউ ঐ তিন নম্বর জার্সিটা চাইলে শুধুমাত্র তাদেরকেই মালদিনির এই বিখ্যাত জার্সি নাম্বারটা দেওয়া হবে। ক্লাবের হয়ে ব্যক্তিগত অর্জন ও কম নেই। ২০০২-০৩ চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে হয়েছেন ম্যান অফ দ্যা ফাইনাল। ১৯৯৪, ২০০৩ এ দুই বার ব্যালন ডি’অর পুরুস্কার এর তৃতীয় হয়েছেন। ২০০৪ সালে সিরি এ এর সেরা ডিফেন্ডার। ২০০৬-০৭ চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেরা ডিফেন্ডার। ইএসএম টিম অফ দ্যা ইয়ার এ জায়গা পেয়েছেন ৪ বার।

জাতীয় দলে মালদিনিঃ

ক্লাব ফুটবল মালদিনিকে যতটা দিয়েছে জাতীয় দলের হয়ে সাফল্যের মুকুট ততটা ধরা দেয় নি। যদিও জাতীয় দলেও সমান সপ্রতিভ ছিলেন তিনি। আজ্জুরিদের হয়ে চারটি বিশ্বকাপ ও তিনটি ইউরোতে প্রতিনিধিত্ব করা মালদিনি জাতীয় দলের হয়ে মোট ১২৬ ম্যাচ খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তার অবসর নেওয়ার সময় এটাই ছিল ইতালির হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড। ৭৪ টি ম্যাচে ইতালির হয়ে অধিনায়কত্ব করেন তিনি। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ছিলেন সহ অধিনায়ক। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক ফ্রাঙ্কো বারোসি ইনজুরিতে পড়লে অধিনায়কের আর্ম ব্যান্ড চলে আসে মালদিনির শক্ত বাহুতে। মালদিনির অসাধারণ নেতৃত্বে ইতালি পৌঁছে যায় ফাইনালে। ফাইনালে ১২০ মিনিট রক্ষণভাগ সাম্লে রাখেন মালদিনি। টাইব্রেকারে ব্রাজিলের কাছে হেরে বিশ্বকাপ স্বপ্ন ছোঁয়ার সামান্য দূরত্ব থেকেই শুন্য হাতে ফিরতে হয় তাকে। ২০০২ বিশ্বকাপ খেলার পর জাতীয় দল থেকে অবসরে যান মালদিনি। জাতীয় দলের হয়ে কোন শিরোপার স্বাদ পান নি এই কিংবদন্তি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রানার আপ, ১৯৯০ বিশ্বকাপে তৃতীয় হয় মালদিনির দল। ইউরো চেম্পিয়নশিপে ২০০০ সালে রানার আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। ইউরো টিম অফ দ্যা টুর্নামেন্টে জায়গা পান ৩ বার। ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ অল স্টার টিমে ২ বার। ২০০২ এ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ড্রিম টিমে নিজের জায়গা করে নেন। ২০১২ সালে ইতালিয়ান ফুটবল হল অফ ফ্রেমে জায়গা হয় এই কিংবদন্তির। দুই প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সাথে লড়াই করে রক্ষণভাগকে নিরাপদ রেখেছিলেন মালদিনি। খেলেছেন ম্যারাডোনার যুগে, খেলেছেন মেসিদের যুগেও। নিজের যোগ্যতা দিয়েই তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। বল পজিশনিং, মার্কিং, ট্যাকলিং, ইন্টারসেপশন প্রতিটি সেক্টরেই তাঁর ছিল অসাধারণ দক্ষতা। তার পজিশনিং এতোটাই নিখুঁত ছিল যে পরিসংখ্যান অনুযায়ী তিনি গড়ে প্রতি ২ ম্যাচে একটি করে ট্যাকল করতেন। ট্যাকল করার জন্য প্রচুর পরিমানে ট্যাকটিক্যাল ইন্টালিজেন্স লাগে। পার্ফেক্ট টাইমিং না হলে কিন্তু ট্যাকলিং হাই রিস্কি। যেমন রাফ ট্যাকলে খেলোয়াড়ের কার্ডের সম্ভাবনার সাথে সাথে পেনাল্টিসহ ডেন্জারাস সেট পিস কনসিড করার ভয় থাকে। একটি পরিসংখ্যানেই তাঁর দক্ষতা প্রতীয়মান হয়। ক্যারিয়ারে ১০০০ এর উপর ম্যাচ খেলে মাত্র ১ বার লাল কার্ড দেখেন এই ডিফেন্ডার। আর্সেনাল এর সাবেক স্ট্রাইকার পল মারসন বলেন , “The best player I ever played against was Paolo Maldini. We [Arsenal] played against Milan in the European Supercup [in 1995]. Maldini marked me and I didn’t even get a kick of the ball all game. He was just unbelievable,” শুধু মাত্র ডিফেন্স নয়, তার ক্রস, অ্যাটাকারদের সাথে ট্রান্জিশনাল প্লের কাজ করা, গতি দিয়ে লেফট উইং দিয়ে ওভারল্যাপ প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের জন্যও হুমকি ছিলো। ব্রাজিল সুপারস্টার রোনাল্ডো বলেন , “I always found it very difficult when I came up against Paolo Maldini. He was the best defender I faced over the course of my career. He definitely deserved to win the award FIFA World Player of the Year several times over.” স্যার আলেক্স ফারগুসন মালদিনি সম্পর্কে বলেন , “He has a wonderful presence, competitive spirit, athleticism, and although not the world’s greatest technically, he has influenced all the Milan teams during his wonderfully successful era.”ফুটবল বিশ্ব অনেক কিংবদন্তি দেখেছে, ভবিষ্যতে আরও অনেক কিংবদন্তি আসবে। কিন্তু “Il Capitano” (the Captain) খেতাব পাওয়া মালদিনির মত হয়ত আর কেউ আসবে না। আজ এই কিংবদন্তির জন্মদিনে জানাই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *