Sunday, 24 Jun 2018

দুর্দান্ত স্পেনের রণপরিকল্পনা

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে ভাল স্কোয়াড ডেপথ কোন দলের? অবশ্যই স্পেন। লোপেতেগুইর হাতে এমন একটা দল যে দলকে যেভাবে খুশি সেভাবে ব্যবহার করতে পারবেন তিনি। ট্যাক্টিক্যালি তার দলের স্ট্রং আর উইক পয়েন্ট নিয়ে আজকের এই পোষ্ট।

স্পেনের স্ট্রং দিক অবশ্যই তাদের শক্তিশালী মিড। এই মিড নিয়ে লোপে চাইলে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই ফরমেশন ৪-৩-৩ এ গিয়ে মিডে ভোলান্তে রোলে বুস্কুয়েটস, ডিস্ট্রিবিউটর রোলে কোকে/থিয়াগো আর ক্রিয়েটর রোলে ইনিয়েস্তাকে খেলাতে পারেন। উপরে একজন নাম্বার নাইনকে মাঝে রেখে দুই পাশে থাকবেন ইস্কো-সিলভা জুটি যারা কিনা চাইলে সেন্টারে চেপে গিয়ে ৪-৫-১ এ রুপ নিতে পারেন। কিংবা ৪-২-৩-১ এ গিয়ে ডাবল পিভটে বুস্কুয়েটস-কোকে জুটির সামনে ইস্কোকে মাঝে রেখে দুই ওয়াইড মিডি ইনিয়েস্তা-সিলভা আর সামনে একজন নাম্বার নাইন।

এই স্ট্রং মিড স্পেনের জন্য কতটুকু আশীর্বাদস্বরূপ তা তাদের চিরাচরিত প্লেয়িং স্টাইল দেখলেই বোঝা যায়। স্পেন বরাবরই পাসিং ফুটবলের অনুসারী। বল পায়ে রেখে এটাকে যাওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। আর সেই দলেই আছে বুস্কুয়েটস, থিয়াগো আর কোকের মত প্লেয়ার যাদের এই সীজনে পাসিং এক্যুরেসি যথাক্রমে ৯১%, ৯২% ও ৮৫ %। যদিও ফার্স্ট টিম ডিজার্ভ একইসাথে তিন এটাকিং মিডফিল্ডার ইনিয়েস্তা, ইস্কো ও সিলভার থাকাকে অনেকেই সমস্যা মনে করেন, তবে লোপেতেগুইর কাছে এর সমাধানও আছে। ৪-৩-৩ এ স্পেন ইনিয়েস্তাকে বুস্কুয়েটস আর কোকে/থিয়াগোর সাথে মিডে রেখে নাম্বার নাইনের পাশে দুই ওয়াইড ফরোয়ার্ড হিসেবে ইউজ করবে ইস্কো-সিলভাকে।

দুই ফুলব্যাক কার্ভাহাল-আলবা স্বভাবতই ওভারল্যাপ করবে। ঠিক এই সময়টাতে সিলভা-ইস্কো চলে আসবেন জোন ১৩-১৫ এর একটু সেন্টারে চেপে। এক্ষেত্রে হয় অপোনেন্ট ফুলব্যাক তাদের ফলো করে কার্ভাহাল-আলবাকে ক্রস-মাইনাস করার জন্য স্পেস দিয়ে দিবেন, নয়তো ফ্রি থাকা অবস্থায় ডি-বক্সের কাছে বল পেয়ে যাবেন ইস্কো-সিলভা। আর এছাড়াও বেঞ্চ থেকে আরো এক থ্রেট ক্রিয়েট করতে পারেন লোপেতেগুই যেটা জিদান করেছিলেন পিএসজির সাথে ফার্স্ট লেগে। সেই দুই দ্রুতগতির ওয়াইড মিডফিল্ডার এসেন্সিও-ভাজকুয়েজ এখন তারও হাতে। ম্যাচের ৬৫-৭০ মিনিটের পর প্রতিপক্ষের ক্লান্ত ফুলব্যাকদের উপর চড়াও হতে নামাতে পারেন এই দুইজনকে।

এই স্পেনের কোন দুর্বল দিক নেই এটাও বলা যায় না এতটা গ্যারান্টি দিয়ে। তাদের প্রধান সমস্যা নাম্বার নাইন সিলেক্ট করা নিয়ে। দেল বস্কের স্পেনে নাম্বার থাকতেন তোরেস/ভিয়া যারা কিনা পাসিং ফুটবলের সাথে মানানসই ছিলেন। লোপেতেগুই আসার পর বাছাই পর্বের ম্যাচে খেলান মোরাতাকে। কিন্তু মোরাতার অফ ফর্মের কারণে এখন দলের মেইন স্ট্রাইকার কস্তা। একে তো এই দলের সাথে খেলার অভিজ্ঞতার অভাব, অন্যদিকে পাসিং ফুটবলের অনভিজ্ঞতাও আছে তার মাঝে। এক্ষেত্রে আমি মনে করি কস্তা থেকে বেটার অপশন সেল্টা ভিগোর হয়ে দারুণ সীজন কাটানো আসপাস। ফিনিশিং এর পাশাপাশি গেম বিল্ড-আপে কন্ট্রিবিউট করাতেও ভাল স্কিল তার। এছাড়া একই সাথে পিকে-রামোস এর মতো দুই সিবি যারা কিনা প্রায়ই পজিশন ছেড়ে উপরের দিকে উঠে যায়, তাদের দ্রুত ফিরে না আসাটাও বিপদজনক। অপোনেন্ট কাউন্টার এটাকে এর সুবিধা পেতেই পারে যেহেতু ডি হ্যায়া কোন ন্যুয়ার-স্টেগানের মতো সুইপার কিপার নন।

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *