Saturday, 21 Apr 2018

ট্যাঙ্গো ইজ ব্যাক! আর্জেন্টিনা ২-০ ইতালি!

প্রায় ১০০ বছর পূর্বে লাতিনে, বিশেষ করে উরুগুয়ে এবং আর্জেন্টিনাতে এক অদ্ভুত ফুটবল স্টাইলের উদ্ভব ঘটে। ছোট ছোট পাসিং নির্ভর এক স্টাইল, যার শুরুটা ধীরগতির এবং বিরক্তিকর হলেও সেই ছোট পাসের মাঝে একপ্রকার শিল্পের ছোঁয়া থাকতো, অহেতুক মনে হলেও প্রতিটি পাসেরই কিছু না কিছু উদ্দেশ্য থাকতো। ধীরগতির সেই বিল্ড আপ অপোনেন্ট হাফে অগ্রসরের সাথে সাথে গতি পেতে থাকতো এবং শৈল্পিক থেকে শৈল্পিকতর হতে থাকতো। প্রতিপক্ষের গোলের কাছে পৌছানো মাত্রই এই স্টাইল তার সর্বোচ্চ গতি লাভ করতো এবং আরো শৈল্পিক হয়ে উঠতো। প্রতিপক্ষ কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা ফাইনাল পাস খেলে ফেলতো এবং প্রতিপক্ষ অবাক হয়ে উপলব্ধি করতো নিরীহ দর্শন সেই ছোট ছোট পাস গুলি ছিল তাদেরকে নীরবে ধ্বংস করে দেওয়ার কিছু পদক্ষেপ!

ছোট ছোট পাস নির্ভর সেই অনিন্দ্য সুন্দর ফুটবল স্টাইলের নাম ছিল “ট্যাঙ্গো ফুটবল”, যা লাতিন এবং আর্জেন্টিনা ফুটবলের ঐতিহ্যগত ফুটবল স্টাইল।

সময়ের সাথে ফুটবল দুনিয়া এবং ফুটবলের স্টাইলের অনেক পরিবর্তন আসে। অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরী, ব্রাজিল এবং সবশেষে ডাচদের উন্নত ফুটবল স্টাইলের উদ্ভাবন এবং শৈল্পিক আক্রমণাত্মক ফুটবলের জায়গায় ফলনির্ভর রক্ষণাত্মক ফুটবলের জোয়ার ফুটবলের অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসে ১০০ বছর আগের ফুটবলের তুলনায়। আর্জেন্টিনার সেই ঐতিহ্যবাহী ট্যাঙ্গো ফুটবল কাতালান ক্লাব বার্সেলোনার হাত ধরে এখনো বর্তমান – কিন্তু টোটাল ফুটবলের ছোয়ায় যা বর্তমানে তিকিতাকা নামেই বেশি জনপ্রিয়!

ট্যাঙ্গো ফুটবলের জনক হলেও সময়ের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে ফলনির্ভর ফুটবলে ঝুঁকা কিংবা প্রতিভাবান ফুটবলারদের ইউরোপে পাড়ি জমানোর কারণে আর্জেন্টিনার ফুটবল দীর্ঘকাল ধরেই ট্যাঙ্গো থেকে দূরে সরে ছিল। কখনো মেনত্তি, কখনো বিয়েলসা, কখনো পেকারম্যানের হাত ধরে ট্যাঙ্গোর মডিফাইড ভার্সন আর্জেন্টাইনদের পায়ে দেখা গেছে, কিন্তু কোচ পরিবর্তনের সাথে সাথে তা আবার হারিয়েও গেছে। আর্জেন্টাইনদের পায়ে শেষবার শৈল্পিক ট্যাঙ্গো দেখা যায় ২০০৬ বিশ্বকাপে!

কিন্তু গতরাতে ম্যানচেষ্টারের ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে ঐতিহ্যবাহী ট্যাঙ্গো ফুটবল যেন নতুনভাবে জন্ম নিলো হোর্হে সাম্পাওলির হাত ধরে! বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যার্থ হওয়া ইতালির বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়টাই হয়তোবা সবকিছু না, কিন্তু শৈল্পিক ফুটবলের পুনর্জন্ম অবশ্যই বিশেষ কিছু!

ইঞ্জুরি আক্রান্ত লিওনেল মেসি ও সার্জিও আগুয়েরো এবং অভিজ্ঞ মাশ্চেরানো, বানেগা, রোমেরোদের ছাড়াই ইত্তিহাদে ইতালির বিপক্ষে খেলতে নামে আর্জেন্টিনা। ৩৬ বছর বয়স্ক উইলি ক্যাবায়েরো, তরুন ট্যাগ্লিয়াফিকো, বুস্তোস, সেলসো, প্যারাদেস, লাঞ্জিনিদের সাথে দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা হিগুয়েনকে নিয়েই মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। কাগজে কলমে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে নামা আর্জেন্টিনার ব্যাকলাইনে দুই তরুণ ফুলব্যাকের মাঝে ছিলেন অভিজ্ঞ ওতামেন্দ্বী-ফ্যাজিও জুটি, মিডে বিগলিয়া-সেলসো-প্যারাদেস ট্রায়ো, আর ফ্রন্টে মারিয়া-হিগুয়েন-লাঞ্জিনি ট্রায়ো। প্রতিপক্ষ ইতালির স্টার্টিং ফর্মেশন ও ছিল ৪-৩-৩।

কাগজে কলমে রাইট উইঙ্গার পজিশনে খেলা লাঞ্জিনি মূলত এ ম্যাচে ছিলেন এটাকিং মিডফিল্ডার রোলেই, তাই আর্জেন্টিনার ফর্মেশনটা মূলত ৪-৪-২ ডায়মন্ড ওর ম্যাজিক স্কোয়ার ছিল। ডিফেন্সিভলি আর্জেন্টিনার ট্রাঞ্জিশন ছিল ৪-৪-২ ফ্ল্যাট সিস্টেমে। যেখানে হিগুয়েনের সাথে তরুণ মিডফিল্ডার লো সেলসোও উপরে পজিশন নিচ্ছিল ডিফেন্ডিং এর টাইম। অফেন্সিভ ফেইজে দুই ফুলব্যাকের ওভারল্যাপ এবং হিগুয়েন- লাঞ্জিনির বক্সে ঢুকে যাওয়ার ফলে ফর্মেশন ২-৩-৫ এ রূপ নিচ্ছিল। অপরদিকে ৪-৩-৩ এর ইতালির ডিফেন্সিভ ট্রাঞ্জিশন ছিল ৪-৫-১ ফ্ল্যাট সিস্টেমে। ইতালির অফেন্সিভ ট্রাঞ্জিশন ছিল অনেকটা ২-৪-৪ এর মতো।

খেলা শুরুর আগেই জানা কথা ছিল যে আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক আর ইতালি তাঁদের ঐতিহ্যগত রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলা খেলবে এবং পুরো খেলাটাও এই ধারনার ব্যাতিক্রম ছিল না। আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই ছোট ছোট পাস নির্ভর খেলা শুরু করে এবং তার শুরু হয় নিচ থেকে। মডার্ন ফুটবলে এই শর্ট পাস নির্ভর বিল্ড আপ ঠেকাতে ডিফেন্ডিং টিম হাইপ্রেসিং শুরু করে। আর্জেন্টিনার বিল্ড আপ নস্ট করতে ইতালির হাইপ্রেসিং এপ্রোচ ছিল আর্জেন্টিনার বক্সের কাছে ম্যান ওরিয়েন্টেড এবং আর্জেন্টিনার বক্সের বাইরে জোনাল ওরিয়েন্টেড। দুই সিবি আর ডিএম বিগলিয়ার সামনে ইতালি প্রায়ই ৪-৫ জনের জোনাল লাইন ক্রিয়েট করছিল যাতে করে আর্জেন্টিনা পিচের মাঝখান দিয়ে বিল্ড আপ করতে না পারে।

তবে সাম্পাওলির জন্যে এটা তেমন কোন সমস্যা ছিল না কারণ সাম্পাওলির শুরুর বিল্ড আপ ডিএমের মাধ্যমে পিচের মাঝখান দিয়ে না বরং ফুলব্যাকের মাধ্যমে উইং দিয়েই করতে পছন্দ করে। তাই আর্জেন্টিনার বিল্ড আপ হয় বুস্তোস আর না হয় ট্যাগ্লিয়াফিকো দিয়ে শুরু হচ্ছিল। আর্জেন্টিনা ওয়াইডে বল খেললেই ৩-৪ জন ইতালিয়ান মিলে সেই সাইডে প্রেসিং শুরু করে আর্জেন্টিনার জন্যে মাঠ আরো ছোট করে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। তবে আর্জেন্টিনা যেন এর জন্যে ভালোভাবেই প্রস্তুত ছিল! রাইট সাইডে বুস্তোস-সেলসো-লাঞ্জিনির ট্রায়াঙ্গুলার পাসিং ঠিকিই এই প্রেসিং বিট করে বল সামনে এগিয়ে নিচ্ছিল। ট্যালেন্টেড রাইটব্যাক বুস্তোস, হোল্ডিং মিড সেলসো, এটাকিং মিড লাঞ্জিনি – ৩ জনেরই বল কন্ট্রোল, পাসিং ভালো হওয়ায় তাদের এই প্রেসিং বিট করতে সমস্যা হয় নি। এই প্রেসিং বিট করে বল যে শুধু হাফলাইন পার হচ্ছিল তা না, বরং ৩-৪ জন ইতালিয়ানকে সাইডে টেনে এনে সেন্টারে বিগলিয়া, প্যারাদেসদের জন্যেও স্পেস ক্রিয়েট হচ্ছিল। লাঞ্জিনি, সেলসোরে সেন্টারে বিগলিয়া, প্যারাদেসদের বল দেওয়া ছাড়া নিজেরাও সেন্টারে মুভ করে ফ্রী স্পেসের সুবিধা পাচ্ছিল। সেন্টারে ক্রিয়েট হওয়া ফাঁকা স্পেসের সুবিধা নিতে হিগুয়েন এমনকি ডি মারিয়াও সেন্টারে চলে আসছিল। রাইট উইঙ্গে তাই আর্জেন্টিনার বিল্ড আপের ধরনটা ছিল জোন ২-৬-৯-১২-১১ এরকম।

লেফটে সাইডে আর্জেন্টিনার ট্রায়াঙ্গেলটা ছিল ট্যাগ্লিয়াফিকো-প্যারাদেস-মারিয়ার। তবে এই ট্র্যায়াঙ্গলে প্যারাদেসে কন্ট্রিবিউশন অফ দ্যা বলে স্পেস ক্রিয়েট ছাড়া খুব বেশি ছিল না। ডি মারিয়ার নিচে নামা, ট্যাগ্লিয়াফিকোর উপরে উঠে যাওয়া কিংবা ফলস ফুলব্যাকের মতোন সেন্টারে মুভ করে আবার ট্রায়াঙ্গেল ক্রিয়েট করা – এই ছিল বেসিক মুভমেন্ট।

ইতালির ৪-৫-১ জোনাল ডিফেন্স সিস্টেমের বিট্যুইন দ্যা লাইনের জোনটা আর্জেন্টিনা গতরাতে ভালোভাবেই কাজে লাগায়। নাম্বার নাইন হিগুয়েন, লাঞ্জিনি, সেলসো – কেউ না কেউ এই বিট্যুইন দ্যা লাইনে ছিলই। ট্রায়াঙ্গুলার পাসিং, লাইন ব্রেকিং পাসিং এর মাধ্যমে আর্জেন্টিনা প্রায়ই এই বিট্যুইন দ্যা লাইনের জোন এক্সপ্লয়েট করছিল এবং ভালো ভালো এটাক বিল্ড আপ করছিল। আর্জেন্টিনার মূল চান্স ক্রিয়েটরের রোল ছিল ডি মারিয়ার, এবং ইতালি বক্সে বল ফেলার কাজটাও তাকেই বেশি করতে দেখা গেছে। রাইটব্যাক বুস্তোসকে এদিন তাই কমই এটাকিং ডিউটি প্লে করতে দেখা গেছে।

অপরদিকে ডিফেন্সিভলি আর্জেন্টিনার হাইপ্রেসিং ছিল ম্যান ওরিয়েন্টেড। ইতালিয়ান হাফে ডিফেন্ডার এবং হোল্ডিং মিডিদের ম্যান মার্কিং এবং ইতালি বল ওয়াইডে খেললেই হার্ড প্রেসিং শুরু করছিল। ইতালিয়ানরা আর্জেন্টিনার মতো ঠান্ডা মাথার ট্রায়াঙ্গুলার পাসিং না খেলতে পেরে হয় লং বল খেলেছে আর না হয় নিজেদের হাফেই বল হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে আক্রমনের সুযোগ করে দিয়েছে। ইতালি কোনভাবে হাইপ্রেসিং বিট করলে আর্জেন্টিনা দ্রুতই নিজেদের হাফে এসে ৪-৪-২ জোনাল ডিফেন্স সিস্টেমে শিফট হচ্ছিল। আর্জেন্টিনার ডিফেন্স লাইন খুব একটা হাই ছিল না, বাট এদিন আর্জেন্টাইনরা বিট্যুইন দ্যা লাইনে ইতালিকে কোন স্পেসই দেয় নি। ইতালির দুই অর্কেস্ট্রা ভেরাত্তি-জর্জিনহো দুইজনেই কড়া ম্যান মার্কিং এ ছিল। পিচের মাঝখান দিয়ে বিল্ড আপ করতে না পেরে ইতালির হাতে অপশন ছিল ঐ একটাই – ডিফেন্স লাইনের পিছনে লং বল খেলা। যেই লং বলগুলি হয় ডিফেন্ডারদের করা ম্যান মার্কিং, হয় অফসাইড ট্র্যাপ আর না হয় বাজে পাসে নষ্ট হয়েছে। দুই একবার অফ দ্যা বল মুভমেন্টে বিট্যুইন দ্যা লাইনে ইতালিয়ানরা স্পেস ক্রিয়েট করলেও কড়া ম্যান মার্কিং এ কেউ সুবিধা করতে পারে নি।

ইতালি সাইডে বল খেললে আর্জেন্টিনার ৪ জন মিডফিল্ডার প্লাস হিগুয়েন ২-৩ জন ইতালিয়ানকে মাঠের সেই কোনায় আটকে ফেলছিল। যেখান থেকে ইতালিয়ানরা খুব কমই বল আউট করতে সক্ষম হয়।

আরেকটা ট্যাক্টিক্স যেটা আর্জেন্টিনা এবং ইতালির মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে এবং যা একই সাথে আর্জেন্টিনাকে অফেন্স-ডিফেন্স দুই ক্ষেত্রেই এডভান্টেজ দিয়েছে – তা হলো কাউন্টার প্রেসিং! আর্জেন্টিনা ইতালির হাফে বল হারালেই ইতালিয়ানদের হার্ড কাউন্টার প্রেসিং করে এদিন, যা একই সাথে ইতালির কাউন্টার এটাক নষ্ট করে এবং বিপদজনক পজিশনে এটাক শুরু করতে সাহায্য করে।

সেকেন্ড হাফে ইতালি আর্জেন্টিনার হাফে হার্ড প্রেসিং শুরু করে এবং আর্জেন্টাইনরাও একটু ঢিল দেয় মুভমেন্টে। এসময় ইতালি ভালো খেলা শুরু করে এটাকিংলি। আর্জেন্টাইনরা টাইমলি কাউন্টার প্রেসিং অর ডিফেন্সিভ শেইপে আসতে লেট করায় ইতালি কয়েকবার ভালো কাউন্টার এটাকে উঠার চান্স পায়। আবার ভেরাত্তিও কিছুটা ফ্রী স্পেস পায় মার্কারের ঢিলেমিতে। এসময়েই ইতালি ২-৩ টা ভালো সুযোগের সৃষ্টি করে যা মিস এবং ক্যাবায়েরোর দুর্দান্ত সেইভে গোলে পরিণত হয় নি।

ইনফর্ম এভার বানেগা প্যারাদেসের জায়গায় মাঠে নামার কিচ্ছুক্ষণ পরেই আসে ব্রেক থ্রু! আর্জেন্টিনার কর্নার কিক থেকে বল রিকোভার করে ইতালি কাউন্টার এটাক শুরু করার এপ্রোচ নেয়। কিন্তু আর্জেন্টিনার কাউন্টার প্রেসিং এ আবারো আটকে যায় ইতালি, লাঞ্জিনির ডিফেন্সিভ ওয়ার্কে ডেঞ্জার জোনেই অপ্রস্তুত ইতালির ডিফেন্স লাইনের সামনে বল পান বানেগা। সেলসোর সাথে দারুণ ওয়ান-টু-ওয়ানের পর দুর্দান্ত এক শটে আর্জেন্টিনাকে লিড এনে দেন এই সেভিয়া মিডফিল্ডার।

গোলের পর সমতা আনার জন্যে ইতালির এটাকিং থার্ডে প্লেয়ার বাড়াতে থাকে। এসময় আর্জেন্টিনা হাইপ্রেসিং ছেড়ে নিজ হাফে জোনাল ডিফেন্ডিং এ বেশি মনোযোগী হয়। ৮৪ মিনিটে ইতালির এক এটাক নস্ট করে নিচে নেমে আসা ফলস নাইন হিগুয়েনকে বল দেন ওতামেন্দ্বী। ২-৪-৪ ফ্ল্যাট সিস্টেমে এটাক করা ইতালির কেউই ছিল না বলের আশেপাশে যারা কিনা কাউন্টার প্রেস করবে অর হিগুয়েনকে ট্যাকল করবে! ইতালির দুই সিবিও অনেক পিছনে ছিল তাই হিগুয়েন কোনপ্রকার বাধাবিপত্তি ছাড়াই ইতালির ডিবক্স পর্যন্ত চলে আসে। ইতালির দুই সিবি পুরাটা সময় হিগুয়েন এবং তাদের দুইপাশে থাকা লাঞ্জিনি-প্যাভনকে মার্ক করা নিয়ে কনফিউশনে ছিলেন। হিগুয়েন বক্সের কাছে এসে দুই সিবিকে নিজের কাছে টেনে লাঞ্জিনিকে ফ্রী করে দেন। ফ্রী লাঞ্জিনি হিগুয়েনের কাছ থেকে বল পেয়ে দারুণ এক শটে কিংবদন্তী কিপার বুফনকে পরাস্ত করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন। বাকি সময়টায় আর তেমন কিছু হয় নি।

হিগুয়েন মিস গুলি না করলে অর মারিয়া ক্রসিং এর ডিসিশন গুলো ভুল না নিলে ব্যবধান যেমন বাড়তে পারতো, তেমনি ইম্বোবিল-ইনসিগ্নেরা মিস না করলে ইতালিও ২-০ তে জিততে পারতো। কিন্তু সৌন্দর্য পিপাসু আলবিসেলেস্তে ফ্যানদের কাছে এই ম্যাচ ক্লাসিক ট্যাংগোর পুনর্জন্মের ম্যাচ হয়েই থাকবে! দীর্ঘকাল স্টাইল শুন্য বিরক্তিকর ফুটবল খেলা আর্জেন্টিনা যে চিরচেনা রুপে ফিরেছে বলে কথা!

অনেকের প্রত্যাশা লিওনেল মেসি এই সিস্টেমে বার্সেলোনার মতো ভয়ংকর হয়ে উঠবে, আবার নিন্দুকদের মত মেসি আসলে এই দলের খেলা নস্ট হবে। তাদের প্রতি – বার্সেলোনার তিকিতাকার অর্কেস্ট্রা ডীপ মিডফিল্ড থেকে খেলা শুরু করে গেম ডিক্টেট করেন, নিজে বল হোল্ড করে বাকিদের জন্যে স্পেস ক্রিয়েট করে বল ডিস্ট্রিবিউট করেন – যাকে বলা হয় রেজিস্তা। কিন্তু তিকিতাকার আদি ভার্সন ট্যাংগোতে এই কাজটা করতেন মিডফিল্ডে সবার উপরে থাকা এটাকিং মিডফিল্ডার অর এনগাঞ্চে। ২০০৬ এ আর্জেন্টিনার শেষ এনগাঞ্চে ছিলেন রিকুয়েলমে। তবে এই ট্যাংগোতে যিনি এনগাঞ্চে রোল করবেন, তিনি জাস্ট একজন ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডারই না, একজন বেস্ট ড্রিবলার, একজন বেস্ট ফিনিশার, একজন ফ্যান্টাসিস্তা – লিওনেল মেসি দ্যা লিটল ম্যাজিশয়ান!

পরিশেষে শুধু একটি লাইনই লেখা যায়, “ওয়েলকাম ব্যাক ট্যাংগো!”

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *