Sunday, 24 Jun 2018

দ্যা ব্যাটল অফ এট্যাক

গার্দিওলা বনাম ক্লপ

চ্যাম্পিয়নস লীগ বড় আসরের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে আজ মাঠে নামছে লিভারপুল-সিটি। প্রথম পর্বে মাদ্রিদ জুভেন্টাস এবং সেভিয়া মিউনিখ মাঠে নামে। আজ আবার মাঠে গড়াচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লীগের বড় আসরের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচ। বার্সা ও রোমা ছাড়াও মাঠে নামছে দুই প্রিমিয়ার লীগ জায়ান্ট লিভারপুল এবং ম্যানচেস্টার সিটি। ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টে দুই দলের এই প্রথম দেখা। এর পূর্বে প্রিমিয়ারলীগ দলগুলোর মধ্যে ১০বার দেখা হয় চ্যাম্পিয়নস লীগে তারমধ্য লিভারপুল ছিল ৬টিতে।

ঐতিহ্যের দিক দিয়ে লিভারপুল ম্যানসিটি থেকে এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক পারফরমেন্স এর বিচারে ম্যানচেস্টার সিটি লিভারপুল থেকে সামান্যতম হলেও এগিয়ে থাকবে। আরেকটু স্পষ্ট করে বললে ম্যানচেস্টার সিটি তাদের ইতিহাসের সেরা ফর্মে আছে। আগামী শনিবার ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর সাথে জয়ের বন্দরে পৌছঁাতে পারলেই এবারের লীগ টাইটেল নিশ্চিত।

অন্যদিকে লিভারপুল তাদের সেরা ফর্মে না হলেও প্রিমিয়ার লীগের শীর্ষ চারদলে তাদের নাম আছে। আগামী চ্যাম্পিয়নস লীগ খেলা প্রায় নিশ্চিত। লিভারপুলের সেরা প্লেয়ার মোহাম্মদ সালাহ উড়ন্ত ফর্মে আছেন। ৩৮ গোল করে সিজনের সেরা ৫ গোলদাতার একজন। ক্লপের তুরুপের ত্রাস সালাহের দিকে আজকেও লিভারপুল ফ্যানরা থাকিয়ে থাকবে। চ্যাম্পিয়নস লীগে এই আসরে সবচেয়ে বেশী গোল লিভারপুলের। সালাহ তাদের সেরা প্লেয়ার হলেও চ্যাম্পিয়নস লীগে ব্রাজিলিয়ান রবার্তো ফিরমিনো হলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। তাদের করা দলীয় ২৮ গোলের মধ্যে ফিরমিনোর অবদান ১০ গোলে, আর চ্যাম্পিয়নস লীগে গোলের অবদানে রবার্তো ফিরমিনো দ্বিতীয় স্থানে আছেন তার উপরে শুধু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফিরমিনো ৭ গোল ও ৩টি এসিস্ট করেন।

অপর দিকে ম্যানচেস্টার সিটি লীগের শীর্ষে এবং কারাবো কাপ জিতে রিল্যাক্স মুডে থাকলেও দলে নেই তাদের সেরা তারকা সার্জিও কুন আগুয়েরো। ম্যানসিটির সেরা এই স্ট্রাইকার হাটুর ইঞ্জুরির কারণে আজকের ম্যাচে একাদশে থাকবেন না। তার ইঞ্জুরি সম্পর্কে গার্দিওলা জানান, “সে এখন মোটামুটি সুস্থ, কিন্তু কাল ডাক্তারের সাথে আলাপ হয়েছে তার (আগুয়েরো) সে বলেছে তার হাটুতে সামান্য ব্যথা অনুভব। তাই আমরা রিস্ক নিতে চাই না।”

আগুয়েরো অনুপস্থিত হলেও দলে আছেন বেলিজিয়ান মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইন। আগুয়েরোর অনুপস্থিতিতে দলের প্রাণ ভোমরা কেভিন ডি ব্রুইন। ইত্তিহাদে নিজের অবস্থান উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন ব্রুইন। সত্য কথা বললে আগুয়েরোর চেয়েও সাম্প্রতিক পারফরমেন্সে সিটির সেরা খেলোয়াড় ব্রুইন। দলের স্বার্থে ১১ গোলের সাথে করেন সর্বোচ্চ ২০টি এসিস্ট! তাই এনফিল্ডে জয় ছিনিয়ে আনতে কেভিন ডি ব্রুইন এর থেকে সেরা পার্ফরমেনস চান গার্দিওলা।

সিটি ফ্যানরা তাকিয়ে থাকবে ডি ব্রুইনের দিকে
সিটি ফ্যানরা তাকিয়ে থাকবে ডি ব্রুইনের দিকে

লিভারপুল সেরা খেলোয়াড় সালাহের সম্পর্কে কেভিন ডি ব্রুইন বলেন, “ইদানীংকালে তার পারফরমেন্স সত্যিই প্রশংসনীয়, এক সিজনে এত গোল করা অবিশ্বাস্য!! ” একক পার্ফরম্যান্সে সালাহ যেকোনো সময় সিটিকে পিছিয়ে ফেলতে পারেন। তবে এ নিয়ে গার্দিওলার কোনো একক প্ল্যান নেই। গার্দিওলার আজকের ম্যাচের আগের উক্তিতে তা স্পষ্ট!

“আমরা আজকের ম্যাচে ফেভারিট, আপনি বড় আসরে মাঠে নামলে নিজেকে ফেভারিটদের খাতায় রাখতে হবে। আর আমরা সেই মন মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামবে, আমাদের সামনের প্রতিপক্ষের ১১জনকে রুখে দিতে আমরা প্রস্তুত, আমরা একটা দল হিসেবে খেলতে চাই।” -গার্দিওলা

তবে তিনি এটাও বলেন, “সালাহ – ফিরমিনো – মানে, ত্রিফলা জাস্ট আনস্টপেবল”

লিভারপুলের সালাহ একাই মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন খেলার

আজকের ম্যাচে কে ফেভারিট তা বলা মুশকিল। একদিকে উড়ন্ত ফর্মে ম্যানসিটি অপরদিকে লিভারপুল নিজেদের মাঠে ইউরোপিয়ান কম্পিটিশনে সেই ২০১৪ থেকে অপরাজিত। শেষবার তারা হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে, রোনালদোর জোড়া গোলে সে ম্যাচ রিয়াল ২-০ গোলে জিতে। প্রিমিয়ারলীগে সিটিকে এবার একমাত্র হারের স্বাদ কিন্তু লিভারপুল দিয়েছে। ১৪ জানুয়ারি এনফিল্ডে সে ম্যাচ ৪-৩ গোলে বিধ্বস্ত করে ম্যানসিটিকে, এর পূর্বে অবশ্য ইত্তিহাদে ৫-০ গোলের লজ্জাজনক হার হারে লিভারপুল।

ঐ ম্যাচ নিয়ে ইয়ুর্গেন ক্লপ বলেন, “হ্যা আমরা জিতেছে, কয়েকমাস পূর্বে তাদের আমরা নিজেদের মাঠে হারিয়েছি। ম্যাচের আগে আমরা জানতাম আমরা পারব, এটা আমাদের স্কিল, যেকোনো সময় তাদের সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারি।”

এ ছাড়াও আরো বলেন, “লিভারপুলে ইতিহাস সমৃদ্ধ, তবে আমরা আমাদের নিজেদের ইতিহাস তৈরি করতে চাই।”

লিভারপুলের দুই ডিফেন্ডার গোমেজ এবং ক্লাভেন ইঞ্জুরির কারণে আজ খেলতে পারবেন না। তবে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে নাথান ক্লাইন দলে ফিরেছেন। ইঞ্জুরিতে আরো মিডের আরো দুইজন খেলতে পারবেন না তারা হলেন ইমরে চ্যান এবং এডাম লাল্লানা। লিভারপুল লাল্লানাকে পুরো সিজনের জন্য হারিয়েছে। গুরুতর ইঞ্জুরির কারণে আর মাঠে নামা হবে না এই সিজনে। তার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন চ্যাম্বারলিন। এটা চ্যাম্বারলিনের মোক্ষম সুযোগ হতে পারে কোচকে ইমপ্রেস করার। তার সাথে মিডে থাকতে পারেন হেন্ডারসন, এবং সাবেক সিটিজেন মিলনার।

এট্যাকিং পজিশনে লিভারপুল তাদের সেরা ৩জনকে পাচ্ছে সালাহ-মানে- ফিরমিনো। অন্যদিকে ম্যানসিটিতে আগুয়েরোর জায়গায় থাকছেন ব্রাজিলিয়ান ওয়ান্ডার বয় জেসুস। মজার বিষয় হল তার খেলা ৩২ ম্যাচের একটিও হারেনি ম্যানচেস্টার সিটি। দলে আরো নেই ফ্যাবিয়ান ডেল্ফ এবং জোন স্টোন্স। ডেলফের জায়গায় লেফট ব্যাক হিসেবে মাঠে নামবেন তরুণ জিনচেংকো।

মিডে গার্দিওলা পাচ্ছেন সিলভা এবং ব্রুইনের সাথে ফার্নানদিনহোকে যা তার মিড লাইনের সেরা ট্রিও বলা যায়। সামনের এট্যাকিং তিন পজিশনে খেলবেন তরুন তিন তুর্কী স্টার্লিং, জেসুস এবং জার্মানির লিরয় সানে। তবে আশাকরা যাচ্ছে আগুয়েরো ম্যাচের দ্বিতীয়ভাগে হয়ত নামতে পারেন। এনফিল্ডে আগুয়েরো এখনো কোনো গোল করতে পারেননি, খরা গুচাতে হয়ত মাঠে নামতেই পারেন।

লিভারপুল ভার্সেস ম্যানসিটিঃ


হেড টু হেডে সবরকমের প্রতিযোগিতায় লিভারপুল ম্যানসিটি থেকে অনেকটা এগিয়ে। সবমিলিয়ে ১৭৮ বারের দেখায় লিভারপুল জিতে ৮৭টিতে এবং সিটি ৪৫টি ম্যাচে।

★সর্বশেষ ১০ দেখায় লিভারপুল জিতে ৬টিতে এবং ম্যানচেস্টার সিটি জিতে ৩টিতে বাকী ১টি ম্যাচ অমীমাংসিত রয়ে যায়।

★ শেষ যে দুই ম্যাচে লিভারপুল এবং সিটি মুখোমুখি হয়, দুদল-ই একটি করে জয় তুলে নেয়। তবে গোল ছিল প্রশংসনীয়, দুই ম্যাচে গোল সংখ্যা ছিল ১২টি। সিটি করে ৮টি এবং লিভারপুল ৪টি।

তাদের বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করলে দেখা যায় ম্যানসিটি শেষ ৬ ইউসিএল ম্যাচে ৪টি জয়ের সাথে দুই ম্যাচে হারে। এবং সবরকমের প্রতিযোগীতায় সিটি শেষ ৬ম্যাচে মাত্র একবার হারের মুখ দেখে। বাকী ৫ম্যাচ জয় পায়।

অন্যদিকে লিভারপুল চ্যাম্পিয়নস লীগে শেষ ৬ম্যাচে কোনো হার হারেনি। ৪টি জয়ের সাথে বাকী দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এবং সবরকমের প্রতিযোগীতায় শেষ ৬ম্যাচে জয় ৪ এবং ড্র এবং হার একটি করে। চ্যাম্পিয়নস লীগে যৌথভাবে বার্সার সাথে তারাও অপরাজিত।

লিভারপুলের সবচেয়ে বড় জয় ৬-১
ম্যনসিটির সবচেয়ে বড় জয় ৫-০

ম্যাচ ফ্যাক্টঃ

এ নিয়ে নক আউট পর্বে ইংলিশ ক্লাব মোট ১০বার মুখোমুখি হবে। এটা ম্যাচ সহ লিভারপুল মোট ৬বার ইংলিশ ক্লাবের সাথে নক আউট ম্যাচ খেলবে।

লিভারপুল ম্যানসিটি মোট ১৭৯ বার একে অপরের মুখোমুখি হবে। আর এই সর্বপ্রথম চ্যাম্পিয়নস লীগে তাদের দেখা। এর আগে ইউরোপিয়ান কোনো আসরেই তাদের দেখা হয়নি।

ক্লপ গার্দিওলাকে মোট ৫বার হারের স্বাদ প্রদান করেন। যা গার্দিওলার বিপক্ষে যেকোনো কোচের সেরা ফর্ম। পাচঁ জয়ের ২টি আসে লিভারপুলের দায়িত্ব নেয়ার পর। দুই জয় পান ৪ম্যাচে।

লিভারপুলে ভ্যান ডাইক আসার পর লিভারপুল তার খেলা ১০ম্যাচের ৬টি ক্লিনশিট রাখতে সক্ষম হয়।

এটি এবারের চ্যাম্পিয়নস লীগে লিভারপুলের ১১তম ম্যাচ হবে। আগের ১০ ম্যাচের একটিতেও হারেনি তারা, জয় ছয় ম্যাচে ড্র চার ম্যাচে। ক্লিনশিট রেখেছে ৫টি ম্যাচে। বার্সার সাথে যৌথভাবে অপরাজিত এখন পর্যন্ত।

২০১৪ থেকে নিজেদের মাঠে এখনো হারেনি লিভারপুল, এনফিল্ডে শেষবার হারে ১৪ সালে এবং তা মাদ্রিদের বিপক্ষে। এখন পর্যন্ত এনফিল্ডে অপরাজিত লিভারপুল।

কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা ৮দলের মধ্যে সিটি এবং লিভারপুলের স্কোয়াড তরুণ্য নির্ভর। লিভারপুল ২৫ বছর ৩১৩দিন! এবং সিটি ২৬ বছর ১৩৪ দিন! তাদের দলের স্টার্টিং এলিভেনের প্লেয়ারদের গড় বয়স।

ম্যানচেস্টার সিটির লেফট উইংগার লিরয় সানে লিভারপুলের এই টিমের সাথে ২বার মাঠে নেমে ৩টি গোল করেন।

ফিরমিনো লিভারপুলের হয়ে ১০গোলে অবদান রাখেন সরাসরি। চ্যাম্পিয়নস লীগে এর থেকে বেশী গোলে অবদান রেখেছেন রোনালদো ১৭ গোলে।

★সিটির সম্ভাব্য মূল একাদশঃ
এডারসন
ওয়াকার-ওতামেন্দি-কম্পানি-জিনচেংকো
ডি ব্রুইন-ফার্নারদিনহো-ডেভিড সিলভা
স্টার্লিং-জেসুস/আগুয়েরো-সানে

★লিভারপুল সম্ভাব্য মূল একাদশঃ
কিউরিয়াস
আর্নল্ড-ম্যাতিপ-ভ্যান ডাইক-রবার্তসন
জেমস মিলনার-হেন্ডারসন-এলেক্সদ চ্যাম্বারলিন
সালাহ-ফিরমিনো- সাদিও মানে

খেলার সময়কাল, আজ রাত ১২.৪৫ মিনিট, নিজেদের মাঠে লিভারপুল সিটিকে আতিথ্য দিবে।

সবকিছু চাপিয়ে আজকের ব্যটল অফ এট্যাক সবার নজরে। দেখা যাক কে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে!

আজ না হয় পুরো ফুটবল দুনিয়া বুদ হয়ে গেল!

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *