Sunday, 24 Jun 2018

আমরা ফেভারিট নই কিন্তু তাও আমরা বিশ্বাস করা থামাবো না

পর্তুগাল নামটা শুনলেই যে কথাটা প্রথম মাথায় আসে তা হলো জলদস্যু। কি প্রতাপটাই না ছিলো তাদের। পুরো বিশ্বকে আতংকে রাখতো তারা। এই জলদস্যুদের বর্তমান প্রজন্মও তাই সে আতংকটা টিকিয়ে রাখতে চায় তবে তা সমুদ্র পথে নয় বিশ্ব ফুটবলে। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপে এইবার পর্তুগাল আসছে বড় স্বপ্ন নিয়ে। ‘দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত টুর্নামেন্টে তারা নিজেদের প্রমাণ করতে চায়, তারা দেখাতে চায় যে শুধু শক্তিই নয় দলীয় ঐক্য ও একজন যোগ্য নেতা থাকলে কি করা যায়।

এইবারের বিশ্বকাপ নিয়ে কোচ দস সান্তোস বেশ ‘বোল্ড’ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলে রাখেননি ইউরোর শেষ সময়ের নায়ক এডেরকে। বাদ দিয়েছেন বার্সায় খেলা আন্দ্রে গোমেজ – সেমেদো থেকে শুরু করে বায়ার্নে খেলা গোল্ডেন বয় খ্যাত রেনাতো সাঞ্চেজকে। পর্তুগালের অন্যতম বড় নাম নানিকেও দেখা যাচ্ছেনা এইবার।

পর্তুগালের দলে বেশ কিছু প্রতিভাবন খেলোয়াড় আছে। যদিও দিন শেষে রোনালদোতেই যেয়ে সব থামে। ৩৩ বছর বয়সেও অদম্য এই ফুটবলার এখনো ছুটেন তেজি ঘোড়ার মতন। গোলমেশিন খ্যাত এই ফুটবলারকে কেন্দ্র করেই যে ‘কুইনাস’দের গেম প্ল্যান হবে তা বলে দেওয়া যায়। এরকম ভয়ানক খেলোয়াড় দলের জন্য অনেকটা বোনাসের মতন। তার কারনে সান্তোস সুযোগ পাবেন ডিফেন্সিভ ট্যাক্টিক্স সাঁজাতে। ইউরোতে যা করেছিলেন আরকি। যার ফলে গ্রুপ পর্বে মাত্র একটি এবং নক আউটে ৪ টি গোল খেয়েছিলো পর্তুগাল।

তবে এই ডিফেন্সই আবার ভোগাতে পারে পর্তুগালকে। ৩৪,৩৫,৩৬ বছর বয়স্কদের নিয়ে যে দলের রক্ষণভাগ তারা কতটাই বা গতিশীল হবে? ফ্রান্স, স্পেন কিংবা বেলজিয়ামের মতন দলের সাথে ফ্ল্যাংকে তারা নিশ্চিতভাবে অনেকটা পিছিয়ে। মরডার্ন ফুটবলের সাথে এই ডিফেন্স লাইন তাল মেলাতে পারে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

পর্তুগাল সম্ভবত ৪-১-৩-২ ফর্মেশনে খেলতে যাচ্ছে। পেপে, সেডরিক, ব্রুনো, গুরেইরো কিংবা ফন্টেকে নিয়ে পিছে চারজন ডিফেন্ডার। তাদের ঠিক উপরে একজন হোল্ডিং মিডফিল্ডার অর্থাৎ উইলিয়াম কার্ভালিও থাকবে ডিফেন্সের ডেপথ বাড়ানোর জন্য। ২ জন মিডফিল্ডার জাও মারিও এবং জাও মুটিনহোর ভালোই ওঠা নামা করতে হবে। একবার মাঝ থেকে ডিস্ট্রিবিউটরের রোল পালন করে আবার ফ্ল্যাংকে যেয়ে ক্রসকেন্দ্রিক এটাকে সাহায্য করতে হবে। দলের প্লে মেকার হিসেবে থাকবে ম্যানসিটির বার্নাডো সিলভা। ফিনিশার হিসেবে আন্দ্রে সিলভাকে নিয়ে থাকবেন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

সব দিক বিবেচনায় পর্তুগালের এই দল নিয়ে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া উচিত। কিন্তু ইউরোর চমক আমাকে স্বপ্ন দেখতে বাধ্য করে তাদের নিয়ে।

ইউরো ২০১৬ এর কথা মনে আছে? ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালির মতন বাঘা বাঘা দলদের সামনে দিয়ে শিরোপা নিয়ে এসেছিলো পর্তুগাল? টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কেউ কল্পনাও করেনি পর্তুগাল এমন কিছু করে দেখাবে। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর তো অনেকে মশকরা করাই শুরু করে দিয়েছিলো যে ইউরোতেও খালি রিপিট টেলিকাস্ট হবে। ফুটবলবোদ্ধারাও কোয়ার্টার ফাইনাল কিংবা সেমির উপরে দেখছিলো না তাদের সেখানে কাপ তো দূরের কথা। কিন্তু সেখান থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি সবসময় বলেছেন যে বিশ্বাস করতে, বিশ্বাসটা থাকলে সব সম্ভব। এইবার বিশ্বকাপে পর্তুগাল নিয়ে রোনালদকে জিজ্ঞাস করলে রোনালদো এইবারও উত্তর দেন, “আমরা ফেভারিট নই কিন্তু তাও আমরা বিশ্বাস করা থামাবো না।” এই বিশ্বাসটা যখন পুরো দলে ছড়িয়ে গিয়েছিলো তখন সবাই দেখেছে পর্তুগিজরা কত ভয়ানক হতে পারে, এই ভয়াবহতা এইবারো বজায় থাকবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *